ঢাকায় শেষ দিনের গণসংযোগে জামায়াত আমিরের একাধিক জনসভা

ঢাকায় শেষ দিনের গণসংযোগে জামায়াত আমিরের একাধিক জনসভা

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত রাজনৈতিক দলগুলো। সারা দেশে ধারাবাহিক গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশের পর নির্বাচনের আগের দিন রাজধানী ঢাকায় বড় পরিসরে প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে অংশগ্রহণকারী দলগুলো। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় একাধিক জনসভা ও গণসংযোগে অংশ নেবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে জামায়াত আমির রাজধানীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসনে সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। সকালে তিনি ঢাকা-১৩ আসনে নির্বাচনী গণসংযোগে অংশ নেবেন। সেখানে জোটপ্রার্থী মামুনুল হকের পক্ষে প্রচারণা চালানোর কথা রয়েছে তার। এই গণসংযোগে নির্বাচনী ইশতেহারের মূল দিকগুলো তুলে ধরা, ভোটারদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার সম্পর্কে অবহিত করার কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ঢাকা-১৩ আসনটি রাজধানীর একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বসবাস এবং ভোটার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। নির্বাচনের শেষ দিনে এ আসনে শীর্ষ নেতার উপস্থিতিকে দলীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রচারণায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারাও অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

এরপর বিকেলে জামায়াত আমির তার নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনে একটি সভায় অংশ নেবেন। এ সভায় স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় এবং নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। ঢাকা-১৫ আসনে দলীয় সাংগঠনিক তৎপরতা দীর্ঘদিনের, ফলে শেষ দিনের সভাকে ভোটারদের সঙ্গে চূড়ান্ত যোগাযোগের সুযোগ হিসেবে দেখছে দলটি।

সন্ধ্যার পর ডা. শফিকুর রহমান রাজধানীর বাইরে দোহার উপজেলায় যাওয়ার কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। সেখানে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক ও গণসংযোগে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগের দিন হওয়ায় সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এ কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীদের সব ধরনের ভোটের প্রচারণা আগামী মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হবে। নির্বাচন বিধিমালা অনুসারে ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচারণা কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকে। এ সময়ের মধ্যে সভা-সমাবেশ, মাইকিং, পোস্টার লাগানো, লিফলেট বিতরণসহ কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার চালানো যাবে না।

নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে সব প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলকে আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রচারণা শেষ হওয়ার পর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের পর কোনো ধরনের প্রচারণা কার্যক্রম চালানো হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের শেষ দিনের প্রচারণা ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলে দলগুলো এ সময়টিকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। বিশেষ করে রাজধানীর আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সরাসরি উপস্থিতি দলীয় সমর্থকদের সক্রিয় করতে ভূমিকা রাখে।

এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ