জাতীয় ডেস্ক
চীনের ভাইস মিনিস্টার সান ওয়েইডং দুই দিনব্যাপী সফরে আগামী ২ এপ্রিল ঢাকায় আসবেন। এটি নতুন সরকার গঠনের পর চীনের উচ্চ পর্যায়ের প্রথম প্রতিনিধি সফর হিসেবে গুরুত্ব বহন করছে। সফরের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ও চীনের ১৪তম পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ করা, যেখানে দুদেশের পররাষ্ট্র সচিবরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। বাংলাদেশ পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
সান ওয়েইডং ঢাকায় আগমনের আগে বুধবার (১২ মার্চ) বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের মতে, সান ওয়েইডংয়ের এই সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের আরও গভীর বোঝাপড়া এবং সহযোগিতার নতুন দিক অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি করবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে চলমান সম্পর্কের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা হবে। বিশেষত বাণিজ্য, অবকাঠামো, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের সহযোগিতার সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থের ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা আলোচনার মধ্যে থাকবে।
সান ওয়েইডং সফরকালে বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের সরকারী কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করার সুযোগও পাবেন। বাংলাদেশ সরকার আশা করছে যে এই বৈঠকগুলো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন মাত্রা যোগ করবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন যাত্রায় চীনের অবদান এবং সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, নতুন সরকার গঠনের পর সান ওয়েইডং-এর এই সফর বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাস দীর্ঘ এবং বহুমুখী। অর্থনৈতিক বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও শিক্ষা খাতে চীনের অবদান উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে পণ্যমূল্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ খাতে চীনের সহায়তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। এই প্রেক্ষাপটে সান ওয়েইডং-এর সফর নতুন দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ ও যৌথ প্রকল্পের সম্ভাবনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগকে জোরদার করবে এবং ভবিষ্যতের নীতিমালায় প্রভাব ফেলবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উচ্চ পর্যায়ের সফরগুলোর মাধ্যমে পারস্পরিক স্বার্থের ক্ষেত্রে সহমত গড়ে তোলা সহজ হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতাকে আরও সুসংহত করবে।
চীনা ভাইস মিনিস্টারের সফর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক নীতির বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে। সরকারের আশা, এই সফরের ফলশ্রুতিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে এবং বিভিন্ন খাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।


