রাজশাহী — জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহী নগরের মতিহার থানা এলাকায় জামায়াত কর্মীর বিরুদ্ধে ‘মব’ করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে জড়িত রয়েছেন।
স্থানীয় সময় গত ২৬ মার্চ কাটাখালি পৌরসভার চৌদ্দপায় বিহাস মোড় এলাকায় ঘটনার মূল অভিযোগকারী খলিলুর রহমানের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন খুশি সাংবাদিকদের জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের কর্মচারী খলিলুর রহমানের বাড়ি ও দোকানঘরে হামলা চালানো হয়। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত কর্মী নজির আলী, রজব আলী ও মিলন আলী তাদের সঙ্গে থাকা সন্ত্রাসীদের নিয়ে বাড়ি ও দোকান দখলের চেষ্টা চালান এবং ফটকের মধ্যে নিজের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেন। খাদিজা ইয়াসমিন খুশি বলেন, তাদের আট ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখার পর রাতের দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।
খাদিজা ইয়াসমিন খুশি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও সেটি এখনও মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি। তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে তাদের বাড়ি ও দোকানঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তার বাবা খলিলুর রহমান মানসিক চাপে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মতিহার থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, “সেখানে হামলা বা ‘মব’ ঘটেছে কিনা তা নিশ্চিতভাবে জানি না। তবে ওই এলাকায় জমি-সম্পত্তি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ রয়েছে এবং আদালতে মামলা চলমান। ঘটনার সন্ধ্যায় আমি আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য গিয়েছিলাম এবং উজিরের লোকজনকে সরিয়ে দিয়েছি।” তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ৫০ জনের বিরুদ্ধে ‘মব’ করে জমি দখলের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন।
অভিযোগপ্রাপ্ত জামায়াত কর্মী রোকন উজির আলী বলেন, “আমরা কারো জমি দখল করতে যাইনি। আমাদের পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। ওইদিন সেখানে আমি উপস্থিত ছিলাম না; আমার ভাই ও আত্মীয়-স্বজন গিয়েছিল। সেদিন কোনো হামলা বা ‘মব’ ঘটেনি।” তিনি বলেন, খলিলুর ছেলে কাওসারের সঙ্গে স্থানীয় বিরোধজনিত ঝামেলা ঘটেছিল, যা সমাধান করা হয়েছিল।
জমি সংক্রান্ত বিরোধ প্রসঙ্গে উজির আলী উল্লেখ করেন, “খলিলুর রহমান মতিহার থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ১৯৮৪ সালে তিনি সাড়ে তিন শতক জমি ক্রয় করেছেন, তবে ছয় শতক জমি বর্তমানে তিনি ব্যবহার করছেন। বিষয়টি আলোচনা করে সমাধান করা সম্ভব।”
অভিযোগকারী খাদিজা ইয়াসমিন খুশি জানান, তাদের ক্রয়কৃত জমির পরিমাণ ছয় শতক হলেও রেজিস্ট্রি হয়েছে সাড়ে তিন শতক। বাকি জমি মহাসড়কের কারণে রেজিস্ট্রি হয়নি। তিনি বলেন, দলিলে মহাসড়কের সঙ্গের জমি ‘বে-দাবি’ হিসেবে উল্লেখ আছে, যার অর্থ দীর্ঘকাল ধরে জমির ব্যবহারকারী ওই অংশও ভোগদখল করতে পারবেন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করছে এবং মামলা নথিভুক্তকরণসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে জমি-সম্পত্তি বিরোধ এবং রাজনৈতিক পরিচয় জড়িত উত্তেজনার একটি প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


