ধর্ম ডেস্ক
আসন্ন হজ মৌসুমকে সামনে রেখে রাজধানীর আশকোনায় হজক্যাম্পে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে এই পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হজযাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, হজযাত্রীদের যথাযথ সেবা প্রদান করতে ব্যর্থ হলে দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে।
পরিদর্শনকালে ধর্মমন্ত্রী জানান, সরকার হজযাত্রীদের সার্বিক সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, হজযাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে তাদের ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। হজযাত্রীদের সেবাকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দেন।
এ সময় ধর্মমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন। তারা হজ ফ্লাইট উদ্বোধন উপলক্ষে গৃহীত প্রস্তুতি, যাত্রীদের আবাসন, খাবার, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। মন্ত্রী সরেজমিনে ক্যাম্পের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং হজযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রস্তুতি ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা নেন।
চলতি বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট শুক্রবার রাতেই সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হজযাত্রীরা আশকোনা হজক্যাম্পে এসে জড়ো হতে শুরু করেন। হজক্যাম্পে তাদের নিবন্ধন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং যাত্রাপূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে হজযাত্রীদের আবাসন ও পরিবেশগত কিছু সমস্যার বিষয়েও ধর্মমন্ত্রীর নজরে আসে। বিশেষ করে ছারপোকা ও মশার উপদ্রব নিয়ে অভিযোগ উঠলে তিনি তা দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অবিলম্বে গ্রহণ করতে হবে, যাতে যাত্রীরা কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন।
এছাড়া হজক্যাম্পে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি তাদের দায়িত্বশীলতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগই যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ধর্মমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, হজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ইবাদত, যা সম্পাদনের জন্য যাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। তাই তাদের যাত্রা যাতে নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খল হয়, সে বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতিটি ধাপে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি হজ পালন করতে সৌদি আরবে যান। এ লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে হজ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে। হজক্যাম্পে প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর নির্ধারিত ফ্লাইটে করে যাত্রীরা সৌদি আরবে গমন করেন।
হজযাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে ধারাবাহিক নজরদারি ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


