অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যক্রম ও রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে গোলাম মাওলা রনির পর্যবেক্ষণ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যক্রম ও রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে গোলাম মাওলা রনির পর্যবেক্ষণ

রাজনৈতিক ডেস্ক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যকারিতা, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি। সম্প্রতি দেশের চলমান প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি সরকারের প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। তার মতে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকার দৃশ্যমান কোনো বড় অগ্রগতি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

গোলাম মাওলা রনি উল্লেখ করেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দেশের সাধারণ মানুষ অন্তত ছয় মাসের একটি সময়সীমা দিয়েছিল। এই দীর্ঘ সময়ে জনমনে বড় কোনো অসন্তোষ প্রকাশ পায়নি এবং সরকারের সমালোচনা থেকেও রাজনৈতিক পক্ষগুলো বিরত ছিল। তবে এই সময়কাল অতিবাহিত হওয়ার পর সরকারের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, গত কয়েক মাসে জাতীয় অর্থনীতি কিংবা জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসেনি, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমের সমালোচনা করে সাবেক এই আইনপ্রণেতা বলেন, বর্তমানে সরকার যে ধরনের উন্নয়নমূলক বা সংস্কারমূলক কাজের কথা বলছে, সেগুলোর বেশিরভাগই প্রান্তিক পর্যায়ের এবং তাৎক্ষণিক প্রভাবহীন। খাল খনন, কচুরিপানা পরিষ্কার বা বিভিন্ন ধরনের কার্ড বিতরণের মতো কর্মসূচিগুলো জাতীয় অর্থনীতির মূল ধারায় বড় কোনো পরিবর্তন আনতে সক্ষম নয়। তিনি মনে করেন, সরকারের এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল যা সরাসরি দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সাধারণ মানুষের মনোবল ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে। গত ৬০ দিনে এমন কোনো বড় প্রকল্প বা নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি যা জাতির জন্য টেকসই সুফল বয়ে আনবে।

বর্তমান সংকট উত্তরণে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এই বিশ্লেষক। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে রাষ্ট্রের প্রধান কাজ হওয়া উচিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপন এবং জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা। সরকারের উচিত জনগণের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট হওয়া এবং সব পর্যায় থেকে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সংকোচন করা। তবে মাঠপর্যায়ে বা নীতিনির্ধারণী স্তরে সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো জোরালো উদ্যোগ বা দিকনির্দেশনা এখনও পরিলক্ষিত হয়নি।

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রসঙ্গটি সামনে আনেন। তিনি মনে করেন, ড. ইউনূসের সরকারকে ছয় মাস সময় দিয়ে জনগণ যে ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে, সেটি আগামী দিনে রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে একই রকম নাও হতে পারে। বিশেষ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাব্য রাজনৈতিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার পর কোনো সরকারকেই এখন আর দীর্ঘ সময় ‘হানিমুন পিরিয়ড’ বা ছাড় দেওয়ার মানসিকতা জনগণের মধ্যে কাজ করবে না।

সার্বিকভাবে, গোলাম মাওলা রনির এই বক্তব্য দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ার মন্থর গতির প্রতি এক ধরনের সতর্কতা সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর চাপের মুখে সরকার আগামী দিনে কী ধরনের কৌশল গ্রহণ করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। সরকারের প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সংস্কারে দৃশ্যমান সাফল্য না এলে জনমনে অসন্তোষ দানা বাঁধার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

Uncategorized