জাতীয় ডেস্ক
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে যৌথ অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘বেস্ট ফিউচার জেনারেশনস’ বিষয়ক বিশেষ দূত চার্লস জে হার্ডার। গতকাল রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে তিনি এই গুরুত্বারোপ করেন।
আজ সোমবার ঢাকার মার্কিন দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কূটনৈতিক বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশেষ দূত চার্লস জে হার্ডার এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের দপ্তরে এই সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। বৈঠকে মূলত উভয় দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের টেকসই উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করে মার্কিন প্রতিনিধি দল বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রস্তাব দেয়। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মেধা বিকাশে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম মার্কিন প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী বিনির্মাণে মার্কিন বিশেষ দূতের এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘বেস্ট ফিউচার জেনারেশনস’ বিষয়ক বিশেষ দূতের এই সফর ইঙ্গিত দেয় যে, ওয়াশিংটন এখন প্রথাগত নিরাপত্তার বাইরেও মানবিক উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎমুখী সামাজিক অংশীদারিত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তরুণ জনগোষ্ঠীর বিশাল কর্মীবাহিনীকে দক্ষ করে তোলার মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনার যে মার্কিন পরিকল্পনা, তারই অংশ হিসেবে এই সফরটি বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া জলবায়ু ঝুঁকির মুখে থাকা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষা নিশ্চিতে উভয় দেশের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়ে থাকতে পারে।
এর আগে গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত চার্লস জে হার্ডার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা পৌঁছান। বিমানবন্দরে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিরা তাকে স্বাগত জানান। সফরসূচি অনুযায়ী, ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছাড়াও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও একটি কর্মশালায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক এই উচ্চপর্যায়ের সফর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ককে আরও বেগবান করবে বলে মনে করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির মাধ্যমে উভয় দেশের জনগণের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধি এবং আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার এই বৈঠকের মাধ্যমে আরও দৃঢ় হয়েছে। মার্কিন বিশেষ দূতের এই সফর কাল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সফর শেষে তিনি এই অঞ্চলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার রক্ষা ও উন্নয়নে একটি বিশদ প্রতিবেদন তৈরি করবেন, যা পরবর্তীতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।


