পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে সমাজ জেন্ডার সংবেদনশীল হবে: তথ্যমন্ত্রী

পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে সমাজ জেন্ডার সংবেদনশীল হবে: তথ্যমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

সমাজে জেন্ডার সংবেদনশীলতার অভাব কেবল ব্যক্তিগত সংকট নয়, বরং এটি সমষ্টিগত মূল্যবোধের ঘাটতির বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি উল্লেখ করেছেন, রাজনীতি ও গণমাধ্যম—এই দুটি শক্তিশালী খাত যদি যথাযথ পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতার আওতায় আসে, তবে সমাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেন্ডার সংবেদনশীল হয়ে উঠবে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) মিলনায়তনে ‘সাংবাদিকতায় জেন্ডার সংবেদনশীলতা’ বিষয়ক ম্যানুয়ালের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পিআইবি, জাগো ফাউন্ডেশন এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যমকর্মী উভয়কেই প্রতিনিয়ত জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হয়। রাজনীতির লক্ষ্য জনসেবা ও রাষ্ট্র পরিচালনা, আর গণমাধ্যমের উদ্দেশ্য বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন। কিন্তু এই দুই ক্ষেত্রে যদি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে, তবে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হয় এবং সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার স্বাধীন গণমাধ্যমে বিশ্বাসী। একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন গণমাধ্যমই পারে রাজনীতিবিদদের কর্মকাণ্ডকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে, যা শেষ পর্যন্ত একটি সুশৃঙ্খল রাষ্ট্র গঠনে সহায়তা করে।

আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাব এবং মোবাইল জার্নালিজম (মোজো) প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে স্মার্টফোনের সহজলভ্যতায় যে কেউ কনটেন্ট তৈরি করতে পারছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই প্রসারের ফলে সাংবাদিকতায় নতুন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইউটিউব বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে বিমূর্ত কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিতার কথা বলা অবাস্তব। প্রকৃত সাংবাদিকতার স্বার্থে দায়বদ্ধতা হতে হবে সুনির্দিষ্ট এবং অস্তিত্বসম্পন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী সুস্থ নীতিমালা ও কার্যকর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

গণমাধ্যমের কাঠামোগত সমস্যা নিরসনে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে জহির উদ্দিন স্বপন জানান, সরকার কোনো একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমের ওপর চাপিয়ে দিতে চায় না। অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতেই সকল সমস্যার সমাধান করা হবে। এরই মধ্যে সরকার প্রধান সংবাদপত্রের মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং পর্যায়ক্রমে সম্পাদক ও টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সঙ্গেও বৈঠক করা হবে। সকলের সম্মিলিত প্রস্তাবনার ভিত্তিতেই গণমাধ্যম সংস্কারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পিআইবি’র মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শবনম মোস্তারী এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস। অনুষ্ঠানে ‘সাংবাদিকতায় জেন্ডার সংবেদনশীলতা’ বিষয়ক ম্যানুয়ালের মূল বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন পিআইবি’র সহযোগী অধ্যাপক মনিরা শরমিন।

আলোচনা শেষে তথ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যানুয়ালটির মোড়ক উন্মোচন করেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই নির্দেশিকাটি সংবাদকর্মীদের জেন্ডার বিষয়ে আরও সচেতন করবে এবং সংবাদে জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানের শেষে সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ