জাতীয় ডেস্ক
হাম ও ডেঙ্গুর মতো জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বক্ষব্যাধি হাসপাতালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধে বাংলাদেশকে মার্কিন সরকারের বিশেষ চিকিৎসা সহায়তা প্রদান উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হাম ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। বিশেষ করে ভ্যাকসিন ও দক্ষ জনবলের কোনো সংকট নেই। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ থাকলেও বিগত সময়ে তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। যার ফলে স্বাস্থ্য সেবায় কিছু কৃত্রিম সংকটের উদ্ভব হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেসব সমস্যা কাটিয়ে উঠে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও গণমুখী ও শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় এখন আগের চেয়ে বেশি সতর্ক।
একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থা আধুনিকায়নে বিশেষ চিকিৎসা সামগ্রী হস্তান্তর করে যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে ৬ লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের ‘জিন এক্সপার্ট কার্ট্রিজ’ এবং শিশুদের জন্য ১১ হাজার কোর্সের যক্ষ্মার (টিবি) ওষুধ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। এই সহায়তা দেশের সংক্রামক ব্যাধি নির্ণয় ও নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের সুশাসন জোরদার এবং চিকিৎসা সামগ্রীর সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যক্ষ্মা শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও আধুনিক করতে তিনটি বিশেষ পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে— কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত (এআই) ডিজিটাল এক্স-রে প্রবর্তন, নতুন প্রজন্মের জিন সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিশু-বান্ধব ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থার উন্নয়ন। রাষ্ট্রদূত আশ্বাস দেন যে, একটি সুস্থ ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই কারিগরি ও চিকিৎসা সহায়তা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর মৌসুমে এ ধরনের সক্ষমতার নিশ্চয়তা জনমনে স্বস্তি ফেরাবে। তবে কেবল সক্ষমতা থাকলেই হবে না, তৃণমূল পর্যায়ে এর যথাযথ প্রয়োগ এবং টিকাদান কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে যক্ষ্মা নির্মূলে মার্কিন সরকারের এই উন্নত কার্ট্রিজ ও শিশুদের বিশেষ ওষুধ সরবরাহ দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে ডিজিটাল এক্স-রে ও এআই প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি রোগ নির্ণয়ের নির্ভুলতা বাড়িয়ে দেবে, যা সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসকবৃন্দ এবং মার্কিন দূতাবাসের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের এই সমন্বিত উদ্যোগ বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে সহায়ক হবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।


