জাতীয় ডেস্ক
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক এবং সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেঙ্গলি পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রীর দপ্তরে এই বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়াও বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাতের সংস্কার, আধুনিকায়ন এবং অপতথ্য প্রতিরোধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাতের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিষয়টি প্রাধান্য পায়। নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় তথ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে হাইকমিশনার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান সরকার দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পূর্ণাঙ্গভাবে নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ শুরু করেছে সরকার।
গণমাধ্যম নীতি নির্ধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতায় যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘অফিস অব কমিউনিকেশনস’ (অফকম)-এর বৈশ্বিক সুনাম রয়েছে। বাংলাদেশের গণমাধ্যম ব্যবস্থার আধুনিকায়নে অফকমের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও কার্যপদ্ধতিকে কাজে লাগানোর তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, অফকমের কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বাংলাদেশের গণমাধ্যম নীতি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার বাংলাদেশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং গণমাধ্যম খাতের উন্নয়নে অফকমের অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেঙ্গলিও পৃথক বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে নতুন দায়িত্বের জন্য অভিনন্দন জানান। এই বৈঠকে সমসাময়িক বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা এবং অপতথ্যের বিস্তার রোধে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। তথ্যমন্ত্রী সুইস রাষ্ট্রদূতকে জানান, সরকার যেমন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করতে চায়, ঠিক একইভাবে জনগণকে ভুল তথ্য, প্রোপাগান্ডা ও অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়াকেও সমধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে অপতথ্য ও গুজব ছড়ানো প্রতিরোধ করা একটি বড় রাষ্ট্রীয় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সুইজারল্যান্ডের আধুনিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উদীয়মান প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিশ্বব্যাপী যেমন নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে, তেমনি তথ্য যাচাই, সাইবার নিরাপত্তা এবং সত্যতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এটি বড় ধরনের ঝুঁকিও তৈরি করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রোধে এবং এর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল অবকাঠামোসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে সুইজারল্যান্ডের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।


