সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিমান মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে ডানাটা’র আগ্রহ প্রকাশ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিমান মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে ডানাটা’র আগ্রহ প্রকাশ

জাতীয় ডেস্ক

বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রদূত এইচ ই আব্দুল্লাহ আলি আব্দুল্লাহ আল হামদী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বিমান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দপ্তরে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিমান চলাচল (অ্যাভিয়েশন) ও পর্যটন শিল্পের সার্বিক উন্নয়নে যৌথ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

বৈঠকে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের উন্নয়ন সহযোগিতার অংশীদার হিসেবে একসঙ্গে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রশংসা করে দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতের আধুনিকায়নে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আদান-প্রদানের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলি আব্দুল্লাহ আল হামদী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে আমিরাতভিত্তিক খ্যাতনামা বিমানসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডানাটা’ (dnata)-র অংশগ্রহণের আগ্রহের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে বিমানবন্দর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, কার্গো ও ট্রাভেল সার্ভিসে ডানাটা একটি সুপরিচিত নাম। বাংলাদেশের প্রধান বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের কারিগরি দক্ষতা ও বিনিয়োগ নিয়ে কাজ করতে ইচ্ছুক বলে রাষ্ট্রদূত জানান।

ইউএই রাষ্ট্রদূতের এই প্রস্তাবের জবাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর বর্তমান প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম এবং এর অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি রাষ্ট্রদূতকে জানান যে, তৃতীয় টার্মিনালটির ‘অপারেশনাল রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার’ (ওআরএটি) কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই ওআরএটি কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে সম্পন্ন এবং টার্মিনালটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার পর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও অন্যান্য বাণিজ্যিক পরিচালনার বিষয়ে সরকার সার্বিক দিক বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী করনীয় সম্পর্কে যথাসময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে বলেও প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম দেশের বিমানবন্দরগুলোর সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দেশের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমান সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণে সদা প্রস্তুত রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের বিমান খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও গতিশীল করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে মন্ত্রী মন্তব্য করেন।

পর্যটন খাতের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনায় উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন যে, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে পর্যটক আগমন বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের পর্যটন শিল্পের প্রসারে যৌথ প্রচারণা এবং বিমান যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়। এই সৌজন্য সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং বিমান চলাচল খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হবে বলে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল মনে করছেন। বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ