রাজনীতি ডেস্ক
সংসদে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য ন্যূনতম সংসদ সদস্যের সমর্থন না পাওয়াকে দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় সীমাবদ্ধতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে মানবাধিকার বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট বা বাণিজ্য চুক্তির মতো একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জাতীয় সংসদে তিনি ছাড়া আর কোনো সদস্য সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন উত্থাপন করেননি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তাঁর বক্তব্যে প্রকাশ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ যেখানে এই চুক্তির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, সেখানে আইনপ্রণেতাদের এই ধরনের উদাসীনতা হতাশাজনক। তিনি বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন কোনো বিশেষ বিষয়ে স্পিকারের কাছে আলোচনার জন্য নোটিশ বা প্রস্তাব জমা দিতে হলে কমপক্ষে পাঁচজন সংসদ সদস্যের যৌথ স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে আলোচনার প্রস্তাব উত্থাপন করার জন্য তিনি পুরো সংসদে নিজের বাইরে আর চারজন সংসদ সদস্যের সমর্থন সংগ্রহ করতে পারেননি। প্রয়োজনীয় সংখ্যার অভাবের কারণে তিনি আনুষ্ঠানিক নোটিশ দিতে ব্যর্থ হন এবং পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এই বিষয়ে নিজের বক্তব্য ও প্রশ্ন তুলে ধরেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংসদীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি বৃহৎ এবং প্রধান রপ্তানি বাজারের সাথে বাণিজ্য চুক্তির খুঁটিনাটি নিয়ে সংসদে বিশদ আলোচনা হওয়া অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বাজারে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার বা জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির শর্তাবলী বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে কতটা রক্ষা করছে, তা যাচাই করার দায়িত্ব আইনপ্রণেতাদের। সংসদে এই বিষয়ে সম্মিলিত আলোচনা না হওয়া আইনসভার তদারকি ভূমিকার দুর্বলতাকে নির্দেশ করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তা ও বিশিষ্ট নাগরিকরা রুমিন ফারহানার এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সহমত পোষণ করে বলেন, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির মতো বিষয়গুলোতে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে গঠনমূলক আলোচনা করা প্রতিটি সংসদ সদস্যের দায়িত্ব। সংসদে কার্যকর বিরোধী কণ্ঠস্বরের অনুপস্থিতি বা এই ধরনের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বিষয়ে সংসদ সদস্যদের অপর্যাপ্ত মনোযোগ দীর্ঘমেয়াদে দেশের বৈদেশিক নীতি এবং অর্থনৈতিক কূটনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বক্তারা জাতীয় সংসদে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষায় সংসদ সদস্যদের আরও সক্রিয় ও সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।


