জাতীয় ডেস্ক
দেশে ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির যেকোনো প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট করেছেন, বাংলাদেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম প্রধান দেশ হলেও সংবিধানে ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় সব ধর্মের মানুষের অধিকার ও গুরুত্ব সমান। অন্য কোনো ধর্মের মানুষকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই এবং রাষ্ট্র সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেম্বার এসোসিয়েশন’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজনে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সামনে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে। এখানে দলীয় পরিচয়ে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে জনগণের আস্থা অর্জনই হবে জয়ের মূল চাবিকাঠি। তিনি জানান, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই মূলত একটি দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত হয়। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় সংগঠন এবং এর এডহক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে, যার কাউন্সিলে সরকারপ্রধান স্বয়ং উপস্থিত থাকবেন।
সীমিত সম্পদ এবং বিশাল জনসংখ্যার চাহিদা পূরণে বর্তমান সরকারের কর্মপরিকল্পনা ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তৃণমূলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চলতি বছরের মধ্যে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের সুবিধার্থে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ, মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা এবং সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করার কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে।
উন্নয়ন কর্মসূচিতে আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, কেবল সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে সর্বাত্মক উন্নয়ন সম্ভব নয়। শক্তিশালী রাষ্ট্র কাঠামো তৈরিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ক্ষমতার সঠিক প্রয়োগ ও ক্ষমতায়ন জরুরি। সরকারের চলমান উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোতে তৃণমূল নেতাদের যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অতীতে গণতন্ত্র এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার যে ক্ষতি হয়েছে তা পুনর্গঠনের আশ্বাস দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্তের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে আইনি সংস্কারের চিন্তা করা হচ্ছে, যাতে সুনির্দিষ্ট অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ঢালাও বরখাস্ত বন্ধ করা যায়। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারপ্রধানের সাথে আলোচনা করে দ্রুত বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।


