সংস্কৃতি ডেস্ক
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে উপমহাদেশের বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার একক সংগীত অনুষ্ঠান ও বিশেষ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে গত শুক্রবার রাতে এই সংগীত সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য বরেণ্য এই শিল্পীকে শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিল্পীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এ সময় সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম উপস্থিত ছিলেন। মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগেই নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তন দর্শক-শ্রোতায় পূর্ণ হয়ে যায়। টিকিট বিক্রি শুরুর প্রথম দিনেই সব টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই আসন না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সম্মাননা গ্রহণের পর রুনা লায়লা মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতিপ্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘দেশের জন্য যারা দিয়ে গেছ প্রাণ’ দেশাত্মবোধক গানটি দিয়ে তাঁর পরিবেশনা শুরু করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এই একক পরিবেশনায় তিনি আধুনিক, চলচ্চিত্র ও দেশাত্মবোধক গানসহ মোট ১০টি গান পরিবেশন করেন। পরিবেশনাকালে জাতীয় নাট্যশালার মিলনায়তনে উপস্থিত শ্রোতারাও শিল্পীর সাথে কণ্ঠ মেলান। পরবর্তীতে উপমহাদেশের জনপ্রিয় সুফি গান ‘দমাদম মাস্ত কালান্দার’ পরিবেশনের মাধ্যমে রাত সোয়া ৯টায় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
একক সংগীত পরিবেশনা ও সম্মাননা গ্রহণ শেষে দেয়া বক্তব্যে রুনা লায়লা বলেন, শিল্পকলা একাডেমির এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিশেষ করে বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার যে সামাজিক দায়বদ্ধতা এই আয়োজনের মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়েছে, তা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। তিনি দেশের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে এটিই ছিল এই প্রখ্যাত শিল্পীর প্রথম একক সংগীতানুষ্ঠান।
ছয় দশকের দীর্ঘ সংগীতজীবনে রুনা লায়লা বাংলা, হিন্দি, উর্দু, পাঞ্জাবি, সিন্ধি, গুজরাটি ও পশতুসহ মোট ১৮টি ভাষায় সংগীত পরিবেশন করেছেন। উপমহাদেশের সংগীত জগতে তাঁর এই বৈচিত্র্যময় পথচলা অত্যন্ত সুপরিচিত। করাচি ও মুম্বাই চলচ্চিত্র শিল্পেও তাঁর দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনি বহুবার পুরস্কৃত ও সম্মানিত হয়েছেন।
আয়োজক কর্তৃপক্ষের মতে, দেশের চলমান পরিস্থিতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনটি শিল্পকলার ইতিহাসে একটি বিশেষ মাইলফলক। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসার এই উদ্যোগ সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।


