অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)-এর চিফ অব মিশন ড. লরা টম-বন্ড স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাথে এক সৌজন্য ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে মানবপাচার প্রতিরোধ, সাইবার প্রযুক্তিভিত্তিক অপরাধ দমন এবং আধুনিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও সুসংহত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং মানবপাচারের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধ মোকাবিলায় গত দুই দশকের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে বর্তমান যুগে সাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেভাবে নতুন কৌশলে মানবপাচার সংঘটিত হচ্ছে, তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়। এছাড়া অভিবাসন প্রক্রিয়াকে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রাখতে পারস্পরিক কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধির বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত পোষণ করেন।
আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে ছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইওএম-এর যৌথ উদ্যোগে প্রণীত ‘সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা’ (ইন্টিগ্রেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট) কৌশল। বৈঠকে জানানো হয়, এই কৌশলের জাতীয় বৈধকরণ (ন্যাশনাল ভ্যালিডেশন) কাজ এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। উদ্যোগটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষা আরও জোরদার হবে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখাসহ (এসবি) অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রযুক্তিগত ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আইওএম-এর পক্ষ থেকে অব্যাহত সহায়তা প্রদানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
বৈঠকে আইওএম-এর মিশন প্রধান ড. লরা টম-বন্ড জানান যে, সংস্থাটির আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল উগোচি ড্যানিয়েল আগামী ১ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করবেন। এই সফরকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উচ্চপর্যায়ের এই সফর উপলক্ষ্যে আগামী ৪ আগস্ট ঢাকায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে (ইউএন হাউজ) একটি বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আইওএম প্রধান এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন নিযুক্ত আইওএম প্রধানকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান এবং তাঁর মেয়াদে দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, মানবপাচার প্রতিরোধ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং সীমান্ত ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আইওএম-কে প্রয়োজনীয় নীতিগত দিকনির্দেশনা এবং বাস্তবায়ন পর্যায়ে সর্বোচ্চ সহায়তার আশ্বাস দেন।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা এবং বৈশ্বিক ক্ষেত্রে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে আইওএম-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে মানবপাচার প্রতিরোধে বৈশ্বিক তহবিল সংগ্রহ, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদান, গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নে আইওএম-এর কারিগরি সহায়তা বাংলাদেশকে বৈশ্বিক মানদণ্ড অর্জনে সহায়তা করছে। এই বৈঠকের মাধ্যমে দুই পক্ষের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।


