ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমারের সান্তোস অধ্যায় শেষের মুখে

ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমারের সান্তোস অধ্যায় শেষের মুখে

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপ মিশন শেষ করে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসে ফেরার পর আবারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে তারকা ফরোয়ার্ড নেইমারের ভবিষ্যৎ। তরুণ সতীর্থদের সঙ্গে ড্রেসিংরুমে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা, ক্লাব প্রশাসনের সঙ্গে ধারাবাহিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়া এবং আর্থিক জটিলতার কারণে ক্লাবে তার অবস্থান সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের এই টানাপোড়েনের ফলে সান্তোসে নেইমারের মেয়াদ নির্দিষ্ট চুক্তির আগেই শেষ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি চ্যাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে ম্যাচ ড্র হওয়ার পর সান্তোসের ড্রেসিংরুমে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। উক্ত ম্যাচে নেইমার প্রথমার্ধে গোল করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে আরও একটি গোল করে দলকে পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন। তবে রক্ষণভাগের ব্যর্থতায় দুই গোল হজম করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ম্যাচ শেষে তরুণ মিডফিল্ডার গ্যাব্রিয়েল বন্টেম্পো এবং ডিফেন্ডার জোয়াও আনানিয়াসকে তীব্র ভাষায় তিরস্কার করেন নেইমার। ম্যাচের বিরতি এবং শেষ বাঁশির পর জুনিয়র খেলোয়াড়দের প্রতি তার এই আক্রমণাত্মক মনোভাব ক্লাব কর্তৃপক্ষ ও কোচিং স্টাফদের গভীরভাবে হতাশ করেছে। সতীর্থদের পিআর টিমের পক্ষ থেকে এটিকে মাঠের স্বাভাবিক ক্ষোভ হিসেবে ব্যাখ্যার চেষ্টা করা হলেও, ক্লাবের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বর্তমানে বেশ উত্তপ্ত।

এর আগেও ট্রেনিং গ্রাউন্ডে সতীর্থ রবিনহো জুনিয়রকে কেন্দ্র করে এক অপ্রীতিকর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। এছাড়া ক্লাবের বাইরের কিছু কর্মকাণ্ডের কারণেও তার পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলায় দক্ষিণ আমেরিকান কাপের ম্যাচ চলাকালীন সময়ে পোকার টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া এবং দলের প্রতি মনোযোগ না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব বিষয় নেইমারের অধিনায়কের ভূমিকা ও নেতৃত্ব দেওয়ার মানসিকতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে নেইমারের শৈশবের ক্লাব সান্তোসে পুনরায় যোগদানকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার ফিটনেস বজায় রাখা এবং ক্লাবের বাণিজ্যিক সাফল্যের ক্ষেত্রে একটি বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে মাঠের ভেতরের পারফরম্যান্সের চেয়ে মাঠের বাইরের নানা বিতর্ক এবং খেলোয়াড়দের প্রতি কঠোর আচরণ উভয় পক্ষের সম্পর্ককে জটিল করে তুলেছে। কেবল ড্রেসিংরুমের কোন্দলই নয়, ক্লাবের বিদ্যমান অবকাঠামো এবং স্কোয়াডের সার্বিক মান নিয়ে ক্লাব সভাপতির সঙ্গেও নেইমার ও তার পরিবারের বিরোধ তৈরি হয়েছে।

এর পাশাপাশি যোগ হয়েছে দীর্ঘদিনের বকেয়া পরিশোধ সংক্রান্ত আর্থিক জটিলতা। চুক্তি অনুযায়ী ইমেজ রাইটস বাবদ প্রায় তিন মাসের বকেয়া মিলিয়ে সান্তোসের কাছে নেইমারের পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০ মিলিয়ন ব্রাজিলিয়ান রিয়ালে, যা মার্কিন ডলারে প্রায় ১৭.৫ মিলিয়নের সমপরিমাণ। সান্তোসের অর্থনৈতিক মন্দার কারণে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা ক্লাব কর্তৃপক্ষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত থাকলেও সাম্প্রতিক সার্বিক পরিস্থিতি বিচারে ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি নবায়ন বা মেয়াদ পূর্ণ করার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে এসেছে। একদিকে আর্থিক বকেয়া, অন্যদিকে নেতৃত্বসংক্রান্ত অসন্তোষ—সব মিলিয়ে ব্রাজিলিয়ান এই তারকার পরবর্তী গন্তব্য নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ