অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি রবি আজিয়াটা পিএলসি এবং ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার বাংলাদেশ লিমিটেড চলতি ২০২৬ হিসাববছরের প্রথম অর্ধবারের (জানুয়ারি-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে, প্রথম ছয় মাসে রবি আজিয়াটার নিট মুনাফায় প্রায় ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারে; প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা কমেছে প্রায় অর্ধেক।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে বুধবার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত এ দুটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের পৃথক সভায় চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুমোদন করা হয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসে মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটার সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৯৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৭৩ পয়সা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে ২২ পয়সা বা ৩০ দশমিক ১৩ শতাংশ। এককভাবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) রবির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ৫০ পয়সা, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ে ছিল ৪৯ পয়সা। অর্ধবার্ষিক আর্থিক ফলাফলে সার্বিক ইতিবাচক ধারা বজায় থাকলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর লক্ষ্য করা গেছে। চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত রবি আজিয়াটার শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৫৩ পয়সায়।
অন্যদিকে, বহুজাতিক খাদ্য ও প্রসাধন পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের অর্ধবার্ষিক পারফরম্যান্সে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ১০ টাকা ৩৩ পয়সা। আগের বছরের প্রথম অর্ধবার শেষে যা ছিল ১৯ টাকা ৭৮ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ইউনিলিভারের ইপিএস ৯ টাকা ৪৫ পয়সা বা ৪৭ দশমিক৭৭ শতাংশ কমেছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রান্তিকভিত্তিক মুনাফাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ইউনিলিভারের শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪ টাকা ৪ পয়সা, যা পূর্ববর্তী বছরের একই প্রান্তিকে ছিল ১২ টাকা ৬২ পয়সা। হিসাব অনুযায়ী, কেবল এ প্রান্তিকটিতেই ইপিএস কমেছে প্রায় ৬৮ শতাংশ। ৩০ জুন ২০২৬ শেষে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সায়।
ব্যবসায়িক এ মন্দার পেছনে প্রধানত পণ্য বিক্রয় কমে যাওয়াকে দায়ী করেছে ইউনিলিভার কর্তৃপক্ষ। এছাড়া আগের বছরের একই সময়ে ট্রেডমার্ক ও প্রযুক্তি রয়্যালটি দায় পুনর্মূল্যায়নের কারণে একটি এককালীন অতিরিক্ত মুনাফা যুক্ত হয়েছিল, যা চলতি বছরের সার্বিক ইপিএস তুলনামূলকভাবে কম দেখানোর অন্যতম কারণ। পাশাপাশি বিগত অর্থবছরের লভ্যাংশ বণ্টন সম্পন্ন হওয়ায় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও হ্রাস পেয়েছে।
আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী তিন বছরের জন্য মো. রুহুল কুদ্দুস খান পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া শামসুদ্দোহা নাঈমকে হেড অব ফাইন্যান্স এবং শারমিন আক্তারকে কোম্পানি সচিব হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে পর্ষদ।


