নগদের আয় বেড়ে ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা: প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতায় জোর ডাকমন্ত্রীর

নগদের আয় বেড়ে ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা: প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতায় জোর ডাকমন্ত্রীর

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) সেবা ‘নগদ’-কে আরও লাভজনক, স্বচ্ছ এবং প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সেবার মান, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। সরকারের অংশীদারিত্ব থাকায় জনগণের এ প্রতিষ্ঠানের ওপর বিশেষ আস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি এই আস্থার প্রতিদান দেওয়ার আহ্বান জানান।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ ডাক ভবনে অনুষ্ঠিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্ব আয় হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। অনুষ্ঠানে নগদ-এর পক্ষ থেকে ডাক অধিদপ্তরকে ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা রাজস্ব আয়ের চেক আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম ও ডাক এবং টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলکিস জাহান রিমির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নগদ-এর প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার সুফল দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিযোগিতামূলক ও নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। সময়ের চাহিদায় ডাক বিভাগকে আধুনিক ও সমন্বিত করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রচলিত ডাকসেবার পাশাপাশি প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক লজিস্টিকস সেবার সম্প্রসারণ ঘটানো হচ্ছে। যেখানে বেসরকারি অন্যান্য পার্সেল সেবাদাতাদের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ খরচে পণ্য পরিবহনের সুবিধা পাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

নগদ-এর অতীত কার্যক্রমের কারণে সৃষ্ট নেতিবাচক ধারণা কাটিয়ে ওঠার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, চুক্তি অনুযায়ী নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগের ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৯ কোটি নিবন্ধিত গ্রাহক রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ৩ কোটি সক্রিয়। এছাড়া প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে। সফটওয়্যার আধুনিকায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা গেলে এর লেনদেন এবং রাজস্ব উভয়ই উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।

ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় নগদ বিক্রি হয়ে যাওয়ার তথ্যকে গুজব হিসেবে আখ্যায়িত করে মন্ত্রী আরও বলেন, বিভ্রান্তিকর তথ্য এড়িয়ে সঠিক সংবাদের মাধ্যমে জনগণকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সরবরাহ করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। সরকার প্রকাশ্য ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সব কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সচিব বিলকিস জাহান রিমি রাজস্ব আহরণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, নাগরিক সেবার মান বাড়াতে রাজস্ব বৃদ্ধির বিকল্প নেই। ২০১৮ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত যেখানে নগদ ডাক অধিদপ্তরকে রাজস্ব হিসেবে ১৩ কোটি টাকা দিয়েছিল, সেখানে গত অর্থবছরে ১৪ কোটি এবং সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকায়। প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও সুশাসনের ফলেই গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি রাজস্ব আয় বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০১৭-১৮ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে নগদ এ পর্যন্ত ভ্যাট ও ট্যাক্স বাবদ সরকারকে মোট ৯৪৬ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। এছাড়া ডাক অধিদপ্তরের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি বাবদ মোট ৪৭ কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেবল ভ্যাট-ট্যাক্স বাবদই প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে সরকারের আয় হয়েছে ৩১৩ কোটি টাকা।

সভাপতির বক্তব্যে নগদ প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাক অধিদপ্তরের প্রশাসনিক টিম দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো নতুন সরকারি ফান্ড ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটিকে পুনর্গঠন করা হয়েছে। সংকটকালীন সময়েও গ্রাহকের পরিষেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি মাসে নগদ-এর মাধ্যমে প্রায় ৪০ থেকে ৪৪ হাজার কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন হচ্ছে। তবে পুরাতন সফটওয়্যার এবং প্রয়োজনীয় মূলধনের সীমাবদ্ধতা দূর করা গেলে এই প্ল্যাটফর্মটিকে দেশের শীর্ষ ডিজিটাল আর্থিক সেবাদাতা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ