অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
আন্তর্জাতিক সেবামুখী বাণিজ্য সহজীকরণ, ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং দেশের সামগ্রিক লেনদেন ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় জানানো হয়, ব্যাংকগুলো বিদেশি লেনদেন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সেবাদাতা এবং অন্যান্য বৈধ সমাধান প্রদানকারীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা বিস্তৃত করতে পারবে। নির্দেশনায় এই পেমেন্ট সমাধান প্রদানকারীদের ‘ক্রসবর্ডার ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন এই কাঠামোর আওতায় ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের জন্য ‘ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট (ডিভিএ)’ বা ডিজিটাল ওয়ালেট সুবিধা চালু করবে। লেনদেনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ব্যক্তিশ্রেণির হিসাব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অধীনে রাখা একটি ‘মাস্টার ডিভিএ’ বা প্রধান সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। ব্যাংকের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় রিয়েল-টাইম মনিটরিং এবং সমান্তরাল খতিয়ান বজায় রাখা হবে, যা অনিষ্পন্ন বা অব্যবহৃত তহবিলের ক্ষেত্রে শতভাগ আমানত সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
নতুন নীতিমালার বড় সুবিধা পাবেন দেশের ফ্রিল্যান্সার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং ব্যক্তিশ্রেণির গ্রাহকেরা। এর আওতায় বিদেশ ভ্রমণ, ব্যক্তিগত ও চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়াও শিক্ষা বা দাপ্তরিক ফি পরিশোধ অত্যন্ত সুগম হবে। ক্ষুদ্র আন্তর্জাতিক কেনাকাটা ও ফি পরিশোধে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পেমেন্ট করা যাবে। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সদস্যপদ ফি, তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত খরচ, ভিসা প্রসেসিং ফি এবং আন্তর্জাতিক হোটেল বুকিং প্রক্রিয়াকরণ আরও সহজ হবে।
রপ্তানিকারক ও ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের বাণিজ্য বেগবান করতে বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) এবং রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাবের বিপরীতে এই ওয়ালেট সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইআরকিউ হিসাবধারীদের সুবিধার্থে প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তা ব্যবসায়িক কাজের জন্য ডিভিএ ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যদিকে ফ্রিল্যান্সার ও ই-কমার্স উদ্যোক্তারা তাদের বৈদেশিক আয় কোনো জটিলতা ছাড়াই দ্রুত দেশে আনতে পারবেন।
বাংলাদেশে আসা বিদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীরাও আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহার করে স্থানীয় মার্চেন্ট পয়েন্টগুলোতে সহজেই অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। সেবাটি বাস্তবায়নের পূর্বে ব্যাংকগুলোকে তাদের প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। একই সাথে অর্থ পাচার প্রতিরোধ এবং ‘গ্রাহককে জানুন’ (কেওয়াইসি) নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের মাধ্যমে নিরাপদ ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা নিশ্চিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


