ক্রীড়া প্রতিবেদক
স্প্যানিশ পরাশক্তি বার্সেলোনা ও স্পেনের উদীয়মান ফুটবল তারকা লামিন ইয়ামাল কেবল সবুজ মাঠেই নিজের নৈপুণ্য দেখাচ্ছেন না, মাঠের বাইরেও গড়েছেন এক অভূতপূর্ব ইতিহাস। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংগ্রাহক ও ট্রেডিং কার্ডের বাজারে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হওয়া কার্ডের নতুন বিশ্বরেকর্ড এখন এই তরুণ উইঙ্গারের দখলে। একটি আন্তর্জাতিক নিলামে তার একটি বিরল স্মারক কার্ড প্রায় ৭ লাখ ৭ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছে, যা ফুটবল সংক্রান্ত ট্রেডিং কার্ডের ইতিহাসে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ মূল্য।
বিশ্বখ্যাত নিলাম সংস্থা ‘গোল্ডিন’ আয়োজিত ‘গ্লোবাল ফুটবল অকশন’-এর দ্বিতীয় আসরে এই ঐতিহাসিক কেনাবেচা সম্পন্ন হয়। নিলামে তোলা হয়েছিল পানিনির ২০২৩-২৪ ডনরুস ফিফা সংগ্রাহক সিরিজের ‘ব্ল্যাক ওয়ান-অফ-ওয়ান কাবুম’ রুকি কার্ডটি। ফুটবল সংগ্রাহকদের কাছে ‘ওয়ান-অফ-ওয়ান’ সংস্করণের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে, কারণ বিশ্বে এই ধরনের নকশা ও বৈশিষ্ট্যের কার্ড কেবল একটিই প্রস্তুত করা হয়। বিশ্বজুড়ে সংগ্রাহকদের তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে কার্ডটি চড়া দামে বিক্রি হয়ে পূর্বের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়।
এই অভূতপূর্ব নিলামের মাধ্যমে ইয়ামাল ছাড়িয়ে গেছেন ফুটবলের দুই কিংবদন্তি সর্বকালের সেরা সর্বজনশ্রদ্ধেয় পেলে এবং লিওনেল মেসির ঐতিহাসিক কার্ডের দামকেও। উক্ত নিলামেই ফুটবলের রাজা পেলের ১৯৫৮ সালের একটি বিরল গ্রেডেড রুকি কার্ড বিক্রি হয়েছে ৬ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারে। অন্যদিকে, আধুনিক ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির ২০২৩-২৪ স্পেশাল এডিশন টপস ক্রোম স্যাফায়ার সিরিজের একটি স্মারক কার্ডের চূড়ান্ত দাম ওঠে ৩ লাখ ১৭ হাজার ২০০ ডলার। গাণিতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইয়ামালের স্মারকটি পেলের কার্ডের চেয়ে প্রায় ১ লাখ ডলার এবং মেসির প্রাপ্ত মূল্যের চেয়ে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার বেশি মূল্যে হাতবদল হয়েছে।
একই আয়োজনে ইয়ামাল সম্পর্কিত আরও দুটি মূল্যবান স্মারক চড়া দামে বিক্রি হতে দেখা যায়। সংগ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত মাত্র ১০টি সীমিত সংস্করণের অন্যতম ৮ নম্বর ‘গোল্ড কাবুম’ রুকি কার্ডটি ১ লাখ ৮৯ হাজার ১০০ ডলারে বিক্রি হয়। এ ছাড়া, ২০২৩-২৪ মৌসুমে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সেরা আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে ইয়ামালের ব্যবহৃত এবং তাঁর স্বহস্তে স্বাক্ষরিত বার্সেলোনার একটি মূল জার্সি বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ ডলারে। সব মিলিয়ে একক নিলাম আয়োজকদের তথ্যানুযায়ী, কেবল ইয়ামাল সংক্রান্ত এই তিনটি আইটেম থেকেই অর্জিত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় মোট ১০ লাখ ৪৯ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার।
আন্তর্জাতিক বাজারের এই মেগা নিলামে ফুটবলের অন্যান্য ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ও উঠতি তারকাদের স্মারকও সংগ্রাহকদের নজর কাড়ে। আর্জেন্টিনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার ১৯৭৭ সালের একটি বিশেষ রুকি ডিস্ক ১০ হাজার ডলারের ওপর বিক্রি হয় এবং তাঁর ‘ব্ল্যাক কাবুম’ কার্ডের দাম ওঠে ৯১ হাজার ৫০০ ডলার। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ফুটবল বিস্ময় ক্যাভান সুলিভানের অটোগ্রাফ সংবলিত একটি বিশেষ প্যাচ ৯০ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং ২০১৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি দলের সদস্য বেঞ্জামিন মেন্ডির মালিকানাধীন একটি বিশ্বকপের অফিশিয়াল রেপ্লিকা ট্রফি ৬২ হাজার ২২০ ডলারে বিক্রি হয়।
খেলার মাঠে অল্প বয়সেই দুর্দান্ত পারফর্ম করে বিশ্ব ফুটবলে নিজের উপস্থিতি জানান দেওয়া লামিন ইয়ামাল যেভাবে বিশ্বসংগ্রাহক বাজারে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন, তা এক বিরল ঘটনা। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, একজন উঠতি ফুটবলারকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক বাজার ও ক্রীড়া সংগ্রাহকদের মধ্যে এমন অভাবনীয় আগ্রহ ও প্রতিযোগিতা প্রমাণ করে যে, ভবিষ্যৎ বিশ্ব ফুটবলের নেতৃত্বের এই ব্যাটনটি এখন ইয়ামালের দিকেই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।


