সারা দেশে একদিনে ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৫৩৪: মোট প্রাণহানি ৫০

সারা দেশে একদিনে ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৫৩৪: মোট প্রাণহানি ৫০

স্বাস্থ্য ডেস্ক

সারা দেশে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর বিস্তার ও প্রকোপ দিন দিন তীব্র হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৩৪ জন রোগী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন এই প্রাণহানির মাধ্যমে চলতি বছরে এডিস মশাবাহিত এ রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত একদিনে মারা যাওয়া ৩ জন রোগীর মধ্যে একজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার, একজন বরিশাল বিভাগের এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

একদিনে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৫৩৪ জন রোগীর তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ঢাকার বাইরে সারা দেশের বিভাগীয় পর্যায়গুলোতেও সংক্রমণের হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগীয় এলাকায় (দুই সিটি করপোরেশন এলাকা ব্যতীত) সর্বোচ্চ ১৩১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ৬৫ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ৫৬ জন রোগী ভর্তি হন।

রাজধানীর বাইরে অন্য বিভাগগুলোতেও ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ছে। তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে ৭১ জন, বরিশাল বিভাগে ৬৮ জন, খুলনা বিভাগে ৪৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩০ জন, রংপুর বিভাগে ২৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সার্বিক পরিসংখ্যান অনুসারে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১৪ হাজার ৬৯০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের একটি বড় অংশ সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেলেও মোট ৫০ জন রোগী প্রাণ হারিয়েছেন। মাসভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় জুলাই মাসে এসে রোগটির ভয়াবহতা চরম রূপ নিয়েছে। এ বছর মারা যাওয়া ৫০ জনের মধ্যে শুধু চলতি জুলাই মাসের দিনগুলোতেই ৩২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

ভৌগোলিক হিসাব অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও সংক্রমণের শীর্ষ স্থানে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। চলতি বছর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ পুরো ঢাকা বিভাগে ডেঙ্গুতে মোট ২৩ জন মারা গেছেন। এছাড়া ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ৬ জন করে মোট ১৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩ জন এবং রংপুর বিভাগে ১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি এবং আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি বহু গুণে বেড়ে যায়। বিশেষ করে বাসা-বাড়ি, ডাব বা নারকেলের খোসা, ফুলের টব, ড্রেন এবং নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা দ্রুত ডিম পাড়ে। নগরবিদ ও কীটতত্ত্ববিদদের মতে, বর্ষার এ সময়ে বাড়ির চারপাশ ও পাত্রে পানি জমে থাকতে দেওয়া ডেঙ্গুর বিস্তার ত্বরান্বিত করার প্রধান কারণ।

চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। জ্বর হলে শুরুতেই ঘরে বসে না থেকে বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া তীব্র মাত্রার ব্যথানাশক ওষুধ সেবন না করে দ্রুত রক্তের ডেঙ্গু এনএস১ (NS1) পরীক্ষা করানো জরুরি। অতিরিক্ত দুর্বলতা, বমিভাব, পেটে তীব্র ব্যথা কিংবা শরীরের কোনো অংশ থেকে রক্তপাতের মতো উপসর্গ দেখা দিলে রোগীকে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার সংস্থা ও সিটি করপোরেশনগুলোকে মশক নিধন অভিযান এবং লার্ভিসাইডিং কার্যক্রম আরও জোরদার করার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু মোকাবিলায় ডেডিকেটেড হাসপাতাল শয্যা, প্লাটিলেট সরবরাহ ব্যবস্থা এবং চিকিৎসাসেবার প্রস্তুতি জোরদার রাখার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ