আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা পর্যালোচনায় উক্ত বৈঠকে ইরান ইস্যুটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তেহরান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কার্যকর কোনো সমঝোতায় পৌঁছাবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। আলোচনায় ইরান মোকাবিলার তিনটি সম্ভাব্য বিকল্প পথ নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হয়। এগুলো হলো—কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করা, সামুদ্রিক অবরোধ বহাল রেখে অর্থনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি করা এবং প্রয়োজনবোধে পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
বৈঠকে কোনো একটি সুনির্দিষ্ট বিকল্প বেছে নেওয়ার বদলে প্রতিটি সামরিক ও কূটনৈতিক পথের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও প্রভাব মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং অর্থনৈতিক সুরক্ষার দিকটি উল্লেখ করে বৈঠকে জানানো হয়, তেহরান বর্তমানে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিকে তাদের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
ইসরায়েলের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, তীব্র জ্বালানি সংকট ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অবস্থা মারাত্মক চাপে রয়েছে। ফলে অর্থনৈতিক ও সামরিক উভয় দিক থেকে অব্যাহত চাপ প্রয়োগ করা হলে তা তেহরানের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে বাধ্য। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় চাপ বজায় রাখার নীতিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় দক্ষিণ সীমান্তে বহিরাগত সামরিক উপস্থিতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়। দক্ষিণ সিরিয়ায় বিভিন্ন সশস্ত্র ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর হুমকি বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত নিজেদের সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখতে ইসরায়েল তার বাফার জোনে সামরিক অবস্থান ধরে রাখবে বলে বৈঠকে পরিষ্কার জানানো হয়। প্রকৃত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে ওয়াশিংটন যাতে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে, সে লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামনে তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির বিষয়টিও স্থান পায়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই চুক্তিকে রিয়াদের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের একটি পথ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে চুক্তির শর্ত ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের পর ইসরায়েল এ বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক অবস্থান পরিষ্কার করবে বলে জানানো হয়েছে।
সামরিক খাতের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে নিজস্ব স্বনির্ভরতা বাড়ানোর একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা পেশ করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। আগামী এক দশকে মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা ধাপে ধাপে হ্রাস করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এর অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় একটি নতুন দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা হয়, যেখানে প্রত্যক্ষ সামরিক সহায়তা হিসেবে ১৬ বিলিয়ন ডলার এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কাঠামোর জন্য অতিরিক্ত ৫ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ ছাড়া ভবিষ্যৎ সামরিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও যৌথ গবেষণার উদ্দেশ্যে ১৬ বিলিয়ন ডলারের একটি যৌথ মার্কিন-ইসরায়েল তহবিল গঠনের প্রস্তাবও টেবিলে রাখা হয়।
দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকের মাধ্যমে দুই মিত্র দেশের মধ্যকার সাম্প্রতিক কৌশলগত মতপার্থক্য নিরসন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় যৌথ পদক্ষেপ নেওয়ার পথ সুগম হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


