রাজনীতি ডেস্ক
গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি চূড়ান্তভাবে শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে অবস্থান করলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত, কিন্তু তিনি পালিয়ে যাওয়ার কারণে দলটির নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়েছে এবং তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ দিল্লিতে দাফন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও সুধীজনদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অন্যান্য দলের ভূমিকা নিয়ে আলোচনাকালে ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করেন রাশেদ খান। তিনি অভিযোগ করেন, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলে এনসিপি মূলত এক ধরণের বিভ্রান্তিকর রাজনীতি চর্চা করছে। পাশাপাশি দলটি বর্তমানে জামায়াতের পরামর্শে পরিচালিত হচ্ছে দাবি করে তাদের গঠনমূলক রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরে তাঁর সহকারী জানান, বর্তমান সরকার বা বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। অতীতে রাজনৈতিকভাবে নির্যাতিত হওয়া সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নেতাকর্মীদেরও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
এনসিপির বিভিন্ন কর্মসূচির প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে এনসিপির কিছু নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রী, তাঁর পরিবার এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করছেন। হবিগঞ্জ ও সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে সাধারণ জনগণ ও সমর্থকেরা এর বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ জানিয়েছে। দায়িত্বশীল রাজনীতি না করলে স্থানীয় জনগণের ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এর আগে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ঝিনাইদহ জেলার সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা বৃদ্ধি এবং মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। রাশেদ খান মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সামাজিক ব্যাধি দূরীকরণে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।
সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


