বিনোদন ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল মঞ্চে বিশ্বখ্যাত কোরিয়ান পপ ব্যান্ড ‘বিটিএস’-এর তারকা সদস্য জিমিনের পরিহিত একটি শার্ট আন্তর্জাতিক সংগ্রাহক বাজারে রেকর্ড তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ‘ক্রিস্টি’স’-এর আয়োজিত এক বিশেষ নিলামে পোশাকটি ১ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১ কোটি ৩০ লাখ টাকারও বেশি। ধারণাকৃত মূল্যের চেয়ে বহুগুণ বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় ঘটনাটি বিশ্ব সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
‘ওয়ান গোল’ শীর্ষক এক সপ্তাহব্যাপী এই বৈশ্বিক নিলামে জিমিনের শার্টটির প্রাথমিক প্রাক্কলিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার মার্কিন ডলার। তবে নিলামের শেষ মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে সংগ্রাহক ও ভক্তদের মধ্যে তীব্র দরকষাকষি শুরু হয়। চূড়ান্ত পর্যায়ে এটি প্রত্যাশিত দরকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ মূল্যে পৌঁছায়। উক্ত নিলামে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ফাইনাল ম্যাচে ব্যবহৃত অফিসিয়াল ম্যাচ বলটির পাশাপাশি জিমিনের শার্টটিই ছিল সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া বস্তুগুলোর একটি।
সংগীত ও ক্রীড়া বিশ্বের এই অভিনব সংযোগে বিশ্বব্যাপী বিটিএস ভক্ত এবং পপ কালচার প্রেমীদের মধ্যে অভূতপূর্ব আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। নিলামে পোশাকটির রেকর্ড মূল্যে বিক্রি হওয়ার সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংগ্রাহকদের প্ল্যাটফর্মগুলোতে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়। বিশ্বখ্যাত তারকাদের ব্যবহৃত সামগ্রীর প্রতি আন্তর্জাতিক সংগ্রাহকদের চড়া চাহিদার বিষয়টি এর মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিটিএস সদস্যদের ব্যবহৃত স্মৃতিচিহ্নের চাহিদা যে কতটা ব্যাপক, তা এই নিলামের চূড়ান্ত ফলাফল থেকেই অনুমেয়। কেবল জিমিনের শার্টই নয়, বিশ্বকাপের উক্ত আয়োজনে উপস্থিত অন্যান্য সদস্যদের পরিহিত পোশাক ও ব্যবহৃত সরঞ্জামাদিও রেকর্ড মূল্যে বিক্রি হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিটিএস সদস্য ভি-এর একটি স্কার্ফ এবং জাংকুকের জ্যাকেট—প্রতিটি ৪৬ হাজার ২০০ ডলারে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া সুগার ব্যবহৃত প্যান্ট ৩৩ হাজার ডলার এবং জে-হোপের গ্লাভস বিক্রি হয়েছে ২৮ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলারে। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের বিশেষ ওই প্ল্যাটফর্মে ব্যান্ডের সদস্যদের পরা সামগ্রী বিক্রি থেকে মোট ৩ লাখ ৩ হাজার ১০০ মার্কিন ডলার সংগৃহীত হয়েছে।
রেকর্ড পরিমাণ মূল্যে এসব বস্তু বিক্রি হলেও এর নেপথ্যে রয়েছে একটি বৃহৎ মানবিক উদ্যোগ। নিলাম থেকে সংগৃহীত অর্থের সম্পূর্ণ অংশ আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা-র পরিচালিত ‘গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’-এ দান করা হচ্ছে। সংগৃহীত এই অর্থ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়ানো হবে। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিকভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ তৈরিতে এবং খেলাধুলার অবকাঠামো গঠনে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। ফলে পপ সংস্কৃতির এই বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তা কেবল বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং বিশ্বজুড়ে সামাজিক উন্নয়ন ও শিশুদের শিক্ষামূলক কল্যাণে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।


