যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি দল আসছে ঢাকা সফরে: দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার বিস্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি দল আসছে ঢাকা সফরে: দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার বিস্তার

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন এক মাত্রায় উন্নীত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল আগামী সপ্তাহের শেষভাগে ঢাকা সফরে আসছে। ২৫টি শীর্ষস্থানীয় মার্কিন প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এই প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনায় অংশ নেবে। সফরকালীন সময়ে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বাংলাদেশ সরকারের একাধিক নীতি নির্ধারণী মন্ত্রণালয়, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বাণিজ্যিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথেও তাঁদের একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গরের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক শেষে তেজগাঁওয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের ফলে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগের ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধিদল দেশের নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে এবং গত কয়েক মাসে গৃহিত বাণিজ্যসহায়ক উদ্যোগগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেছে। মূলত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের ট্রাভেল অ্যাডভাইজারি হালনাগাদ করে বাংলাদেশকে মার্কিন উদ্যোক্তা ও সাধারণ নাগরিকদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করায় এ বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সফর ত্বরান্বিত হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধির পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আমদানিকৃত কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্যের দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি সমুদ্র, স্থল ও বিমান বন্দরে কমার্শিয়াল অ্যাক্টিভিটি ২৪ ঘণ্টা সচল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের দাবির প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দর ও ঢাকা বিমানবন্দরসহ প্রধান প্রধান শুল্ক স্টেশনগুলোতে ২৪/৭ সেবা নিশ্চিতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের এই পদক্ষেপকে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজ ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা স্বাগত জানিয়েছেন, যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের গতি ত্বরান্বিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি স্থানীয় শিল্প খাতের সংকট নিরসনেও উদ্যোগী হয়েছে সরকার। দেশীয় শীর্ষ উদ্যোক্তা ও বাণিজ্য প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে শিল্প খাতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট দূরীকরণ, কর ও শুল্ক কাঠামোর আধুনিকায়ন এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে (যেমন বেজা ও বিইপিজেডএ) বিনিয়োগের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাসের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতের তাগিদ দেওয়া হলে সরকারের পক্ষ থেকে একটি ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব (প্রো-বিজনেস) নীতি অনুসরণের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান এবং বিশাল ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা সম্ভাবনাময় তরুণ মানবসম্পদের কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান উদীয়মান বাজার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তরুণ সমাজকে কর্মক্ষম ও দক্ষ করে গড়ে তোলার জাতীয় লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সরকারের অর্থনৈতিক কৌশলের মূল ভিত্তি। মার্কিন এই বৃহৎ বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সফর এবং বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সেবা চালুর সিদ্ধান্ত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। বিশ্ব অর্থনীতিতে বর্তমান অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বৃহৎ অর্থনীতির দেশের সাথে অর্থনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ