জাতীয় ডেস্ক
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘তথ্য-প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী এআই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার বগুড়ার মম ইন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মহাসমাবেশে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক প্রধান অতিথি হিসেবে এ কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন। এ সময় দেশের রূপান্তরে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রভাব মোকাবিলা এবং নতুন বিশ্বমানের কর্মসংস্থানের উপযোগী মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্য ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশীয় যুবসমাজকে আধুনিক ও বিশ্বমানের কর্মক্ষেত্রের জন্য উপযোগী করে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে এই প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে আন্তর্জাতিক মানের ১০টি উন্নত স্পোর্টস ভিলেজ প্রতিষ্ঠার সরকারি পরিকল্পনার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার প্রতি জোর দেন। একই সাথে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে সার্বিক প্রশাসনিক ও সামাজিক কার্যকারিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা প্রশিক্ষণার্থীদের মেধা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রকল্প পরিকল্পনা ও পরিচালনা অংশীদার ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম প্রশিক্ষণ কাঠামোর নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রশিক্ষণার্থীদের এআইভিত্তিক কার্যক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন আধুনিক এআই টুলস ব্যবহারের কৌশল শেখানো হবে। সভাপতির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল-আলম বলেন, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের হার বৃদ্ধি করা এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
কর্মসূচির তথ্যসংক্রান্ত পর্যালোচনায় জানানো হয়, প্রথম ধাপে দেশের ৬৪টি জেলা থেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে ১ হাজার ৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি মোট ৪৪৮টি ব্যাচে বিভক্ত, যেখানে প্রতিটি ব্যাচে ২৫ জন করে অংশ নেবেন। দুই মাস মেয়াদি এই কোর্সে ৩০০ ঘণ্টার মোট ৫০টি ক্লাসের মাধ্যমে নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। বগুড়ার মূল ভেন্যু থেকে সারাদেশের রূপরেখা তৈরির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় দুই হাজার প্রশিক্ষণার্থী ও প্রতিনিধি ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
অনুষ্ঠানের শেষভাগে প্রযুক্তি খাতের সাফল্যে উৎসাহ দিতে একটি বিশেষ পুরষ্কার বিতরণী সেশন পরিচালিত হয়। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের চলমান ফ্রিল্যান্সিং প্রকল্পের অধীন রাজশাহী বিভাগে সর্বোচ্চ আয়কারী ৮ জন সফল ফ্রিল্যান্সারের হাতে ল্যাপটপ হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিভাগের অন্যান্য জেলা থেকে মনোনীত ২৪ জন ফ্রিল্যান্সারকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করে তাদের মেধার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি জানানো হয়। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়িয়ে জাতীয় অর্থনীতি মজবুত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত হয়।


