নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ: একই পরিবারের শিশুসহ ৩ জন আশঙ্কাজনক

নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ: একই পরিবারের শিশুসহ ৩ জন আশঙ্কাজনক

অপরাধ ও দুর্ঘটনা ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জে বসতবাড়িতে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বিস্ফোরণে একই পরিবারের শিশুসহ তিনজন মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোরের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দগ্ধ তিনজনের অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন মো. মাইদুল ইসলাম (২৭), তাঁর স্ত্রী মোছা. বিউটি আক্তার (২৪) এবং তাঁদের আট বছর বয়সী ছেলে মো. মারুফ। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে সকালে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, রোগীদের শ্বাসনালীসহ শরীরের সিংহভাগ অংশ দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্যমতে, মাইদুলের শরীরের ৮৫ শতাংশ, বিউটির ৮০ শতাংশ এবং শিশু মারুফের শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে। দগ্ধের হার অত্যধিক হওয়ায় তাঁদের বাঁচিয়ে তোলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে, তবে চিকিৎসাগত দিক থেকে সবাই অতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরের দিকে ঘরের আবদ্ধ বাতাসে গ্যাসের লিকেজ জমিন হয়ে ছিল। পরবর্তীতে আগুন ধরানো বা কোনো বৈদ্যুতিক সুইচের স্পার্ক থেকে এই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। বিস্ফোরণের মুহূর্তে আগুন দ্রুত ঘরের ভেতর ছড়িয়ে পড়ায় ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা বাসিন্দারা দগ্ধ হন।
শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ, নিম্নমানের পাইপলাইন এবং তদারকির অভাবে প্রায়শই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আবদ্ধ ঘরে গ্যাসের লিকেজ সনাক্তকরণে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের নিয়মিত পরিদর্শন না থাকলে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা অসম্ভব। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দুর্ঘটনাটির সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ