আন্তর্জাতিক ডেস্ক
লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোগকারী কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে সৌদি আরবের সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি জাহাজে হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা সাবার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। তবে এ হামলার বিষয়ে সৌদি আরব সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এর আগে বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে এক বাণিজ্যিক জাহাজে হুথিদের পৃথক হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইয়েমেনের কোস্ট গার্ড। বেশ কিছুদিন ধরেই লোহিত সাগরীয় এলাকায় বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজে হুথিদের ধারাবাহিক হামলা আন্তর্জাতিক নৌপথে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লোহিত সাগরের এই কৌশলগত অঞ্চলে সৌদি সামরিক জাহাজে হামলার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি ভিন্ন মাত্রা ধারণ করছে।
সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর কোনো বহিঃশত্রুর সশস্ত্র আক্রমণ ঘটলে তা তিনটি দেশের ওপর যৌথ হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। সম্ভাব্য যেকোনো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক আগ্রাসন মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই পারস্পরিক নিরাপত্তা চুক্তির মূল উদ্দেশ্য। ফলে বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে সৌদি সামরিক সরঞ্জামবাহী জাহাজে হামলার পর এই সামরিক জোটের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।
এই চুক্তির ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সামরিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু দৃশ্যমান পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবে সৌদি আরবের কিং আবদুলআজিজ বিমানঘাঁটিতে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ও বিশেষ সহায়ক সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যৌথ সামরিক সমন্বয় জোরদার করা, সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালনাগত কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান অস্থিরতার মধ্যে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের এই ত্রিদেশীয় নিরাপত্তা সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে। বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের সাম্প্রতিক এই হামলা ওই অঞ্চলে যৌথ সামরিক উপস্থিতি ও সম্ভাব্য যৌথ সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


