তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির সৌজন্য সাক্ষাৎ: অপপ্রচার মোকাবিলা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্ব

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির সৌজন্য সাক্ষাৎ: অপপ্রচার মোকাবিলা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্ব

জাতীয় ডেস্ক
জাতিসংঘে বাংলাদেশের মনোনীত স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. আইরিন জুবাইদা খান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর নিজ কার্যালয়ে এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা, আন্তর্জাতিক কূটনীতি জোরদার এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচার মোকাবিলার ওপর যৌথভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়।
দ্বিপক্ষীয় আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন। উক্ত অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য যোগদান ও কর্মসূচির বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যথাযথভাবে উপস্থাপনের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন দুই কর্মকর্তা। সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর যোগদানের সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন ইতিবাচক কার্যক্রম, অগ্রাধিকারমূলক খাত এবং বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে দেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় মিডিয়া ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ সহযোগিতা জোর দেওয়া হয়েছে।
ড. আইরিন জুবাইদা খান বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সামগ্রিক ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও সহায়তা কামনা করেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
আলোচনায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তারকে বর্তমান সময়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংগঠিত বিভিন্ন অপপ্রচার দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এই বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি কার্যকর ও দ্রুত তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। উভয় পক্ষই একমত হন যে, আন্তর্জাতিক মহলে সঠিক তথ্য সময়মতো পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে যেকোনো ধরনের অপপ্রচার ব্যর্থ করে দেওয়া সম্ভব।
তথ্যমন্ত্রী জানান, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভুয়া খবর এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার ঠেকাতে সরকার ও তথ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে কেবল একা সরকারের পক্ষে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপতথ্য প্রতিহত করতে সরকার, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করে একযোগে কাজ করতে হবে। সামাজিক মাধ্যমে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরার ক্ষমতা জোরদার করার প্রতিও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তারা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়নে গণমাধ্যম ও তথ্য কৌশল কীভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। আজকের এই বৈঠকটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ সুসংহত করার পাশাপাশি দেশবিরোধী অপপ্রচার রোধে কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ