দেশের আরও ১২ জেলায় চালু হলো ই-বেইল বন্ড কার্যক্রম, মোট ২৮ জেলায় সেবা বিস্তার

দেশের আরও ১২ জেলায় চালু হলো ই-বেইল বন্ড কার্যক্রম, মোট ২৮ জেলায় সেবা বিস্তার

আইন ও বিচার ডেস্ক
জামিনপ্রাপ্ত আসামি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের আদালত ও কারাগারে যাতায়াতের সময় এবং ভোগান্তি কমাতে দেশের আরও ১২টি জেলায় অনলাইন ই-বেইল বন্ড (ডিজিটাল জামিননামা) সিস্টেম চালু করা হয়েছে। নতুন ১২টি জেলা যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বর্তমানে দেশের মোট ২৮টি জেলায় এই আধুনিক বিচারিক সুবিধা সম্প্রসারিত হলো।
বৃহস্পতিবার সকালে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিচারব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে নতুন জেলাগুলোতে ই-বেইল বন্ড সিস্টেমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
নতুন করে এই ডিজিটাল সেবার আওতায় আসা জেলাগুলো হলো—টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, কক্সবাজার, চাঁদপুর, রাঙামাটি, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, হবিগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও ও জামালপুর।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, সনাতন বা প্রচলিত বিচারিক পদ্ধতিতে একটি জামিননামা দাখিল ও চূড়ান্তভাবে নিষ্পন্ন করতে অন্তত ১২টি ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হতো। তবে নতুন ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে এই দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়াকে সংকুচিত করে মাত্র দুটি ধাপে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে জামিন-সংক্রান্ত কার্যক্রম নিষ্পত্তিতে সময় বাঁচবে এবং সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।
নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা তাঁদের চেম্বার কিংবা যেকোনো স্থান থেকে স্মার্টফোন বা অনলাইনের মাধ্যমে সহজে জামিননামা দাখিল করতে পারবেন। দাখিলকৃত আবেদনের পর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে আসা ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ডের (ওটিপি) মাধ্যমে আবেদন গ্রহণের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হবে।
এই ব্যবস্থার কার্যকারিতার ফলে জামিনপ্রাপ্ত আসামি ও তাঁদের স্বজনদের কারাগার, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং জেলা জজ আদালতে বারংবার যাতায়াতের প্রয়োজনীয়তা বহুলাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে এটি বিচারিক অঙ্গনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জবাবদিহি ও কাঠামোগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম ধাপে দেশের ১৬টি জেলায় এই সেবা পরীক্ষামূলক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছিল। বিগত কয়েক মাসে ঐ জেলাগুলোতে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ই-বেইল বন্ড সফলভাবে অনলাইনে দাখিল করা হয়েছে। প্রাথমিক এই অভিজ্ঞতার ইতিবাচক ফল পাওয়ার পরেই দেশের অন্য জেলাগুলোতে সেবাটি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিচার বিভাগীয় সেবাকে আরও জনবান্ধব, সহজ ও গতিশীল করতে সরকার ই-বেইল বন্ডের পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (মেডিয়েশন) এবং বিনামূল্যে আইনি সহায়তা (লিগ্যাল এইড) কার্যক্রমের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। মামলাজট নিরসন ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বেশ কিছু কৌশলগত উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব জেলা মামলাজট হ্রাস করা এবং নিষ্পত্তির হারে প্রশংসনীয় সাফল্য দেখাবে, সেসব জেলার বিচারিক কর্মকর্তাদের আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উৎসাহিত করার অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস, অতিরিক্ত সচিব এস এম এরশাদুল আলম এবং বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হোসাইনসহ মন্ত্রণালয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ