রাষ্ট্রপতি পদে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা

রাষ্ট্রপতি পদে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা

রাজনীতি ডেস্ক
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বিত প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪৯ মিনিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে এই মনোনয়নপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন জোটের শীর্ষ নেতারা।
জমাকৃত মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর প্রস্তাবক হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান। আর সমর্থক হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন।
নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র হস্তান্তরের সময় ১১ দলীয় ঐক্যের একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এবং এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরাসরি রিটার্নিং কর্মকর্তার কক্ষে উপস্থিত হয়ে এই ফরম জমা দেন। এ সময় ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতা এবং কয়েকজন জাতীয় সংসদ সদস্যও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছিল রাষ্ট্রপতির পদে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়সীমা। নির্বাচন কমিশনের সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১৬ আগস্ট দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রগুলোর আনুষ্ঠানিক বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। বৈধ প্রার্থীরা চাইলে আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন। যদি একের অধিক বৈধ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকেন, তবে আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের নির্ধারিত কক্ষে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতির নির্বাচনে নির্বাচক মণ্ডলী হিসেবে কাজ করেন জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যরা। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য এই নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।
রাজনৈতিক ও আইনি বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে একাধিক জোট বা দলের প্রার্থী দেওয়া দেশের গণতান্ত্রিক চর্চায় একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। যদিও জাতীয় সংসদে রাজনৈতিক দলগুলোর আসন সংখ্যার ভিত্তিতে ক্ষমতার সমীকরণ নির্ধারিত হয়, তবুও নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশের সংসদীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও প্রাণবন্ত ও বহুমাত্রিক করে তোলে।
প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমার মাধ্যমে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতির কূটনৈতিক ও কৌশলগত আলোচনা এখন তুঙ্গে। আগামী ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে ২০ আগস্টের ভোটে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতখানি দ্বিমুখী রূপ নেবে।
রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ