ক্রীড়া ডেস্ক
দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়াঙ্গনের বিকাশ এবং খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুল পর্যায়ে বাধ্যতামূলক খেলাধুলা চালু করা হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ নগরীর শিল্পাচার্য জয়নুল উদ্যানসংলগ্ন নবনির্মিত ‘দি স্পোর্টিভা’ টার্ফের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এ ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী জানান, খেলাধুলাকে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই পরিকল্পনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গ্রামীণ জনপদ। দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে খেলার মাঠ প্রস্তুত করার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করা হবে। এছাড়া, আগামী দিনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় সিজন আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, দশটি ভিন্ন ভিন্ন ইভেন্টে সারাদেশের ১৪ লাখ ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণে এই প্রতিযোগিতামূলক আয়োজনটি সম্পন্ন হবে, যা নতুন মেধা অন্বেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ময়মনসিংহের ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, নতুন করে যত্রতত্র স্থাপনা নির্মাণের পরিবর্তে বিদ্যমান ক্রীড়া স্থাপনাগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ময়মনসিংহ স্টেডিয়ামসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো সংস্কারের মাধ্যমে ক্রীড়াবিদদের উপযোগী করে তোলা হবে। এছাড়া স্থানীয় সার্কিট হাউস মাঠে ক্রিকেট চর্চাকে আরও গতিশীল করতে দুটি রোলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে দেশের ক্রীড়া অবকাঠামোর মানোন্নয়ন এবং মাঠ সংকটের যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতেই সরকার এই সংস্কারমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, স্কুল পর্যায়ে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা হলে শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এছাড়া পেশাদার ক্রীড়াবিদ তৈরির যে লক্ষ্য সরকারের রয়েছে, তা পূরণে তৃণমূল থেকে প্রতিভা সন্ধানের এই উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, জাকির হোসেন বাবলু, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান সরকার রোকনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ক্রীড়াব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজনে সম্পৃক্ত ছিলেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কোচ মারুফুল হক ফেরদৌস।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ২০০৩ সালের সাফজয়ী জাতীয় ফুটবল দলের অংশগ্রহণে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।


