আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গাজা যুদ্ধবিরতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার জন্য মিসরের রাজধানী কায়রো সফর করছেন ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ও শীর্ষ আলোচক খলিল আল-হাইয়া। গত জুলাইয়ের শেষ দিকে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে আসার পর এটিই তার প্রথম মিসর সফর। রবিবার সকালে তিনি মিসরের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হাসান রাশাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই সফরে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং মার্কিন প্রশাসনের প্রস্তাবিত রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। এর অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার এবং ‘বোর্ড অব পিস’-এর গাজা বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ ইসরায়েল ও মিসর সফরে আসার কথা রয়েছে। যুদ্ধবিরতি এবং গাজার প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যকার বর্তমান দূরত্ব ও মতপার্থক্য কমিয়ে আনা এই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সফরের প্রধান উদ্দেশ্য।
এর আগে ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রস্তাবিত ১৫ দফা রূপরেখা নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছিল। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী হামাসের নতুন একটি ফিলিস্তিনি পরিচালনা কমিটির কাছে অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হামাসের রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলি সরকারকে প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধ্য করতে মার্কিন প্রশাসন ও মধ্যস্থতাকারীদের কার্যকর ভূমিকার প্রত্যাশা করছে ফিলিস্তিনি পক্ষ।
এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অভিযান ও বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলায় নতুন করে বেশ কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ফিলিস্তিনি সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে উপত্যকাটিতে সামগ্রিক প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, চলমান এই কায়রো বৈঠক গাজা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে।


