ঝুট ব্যবসায়ী মনির হত্যা মামলায় সাবেক এমপি আমিরুল আলম মিলন গ্রেপ্তার

ঝুট ব্যবসায়ী মনির হত্যা মামলায় সাবেক এমপি আমিরুল আলম মিলন গ্রেপ্তার

আইন ও আদালত ডেস্ক
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রিক রাজধানীর শাহবাগ থানা এলাকায় ক্ষুদ্র ঝুট ব্যবসায়ী মো. মনির হত্যা মামলায় বাগেরহাট-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য আমিরুল আলম মিলনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত শুনানি শেষে পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ১৫ আগস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক মাইনুল ইসলাম খান পুলক আসামিকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে একটি আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রাথমিক অনুসন্ধানে সাবেক এমপি আমিরুল আলম মিলনের সরাসরি সম্পৃক্ততার সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এবং প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আসামিকে এ মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।
আদালতে আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষ এবং তদন্ত কর্মকর্তার যুক্তি বিবেচনা করে বিচারক আবেদনটি মঞ্জুর করেন এবং আমিরুল আলম মিলনকে মনির হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।
মামলার নথিপত্র ও অভিযোগ বিবরণী থেকে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন চূড়ান্ত রূপ নেয়, তখন গত বছরের ৫ আগস্ট রাজধানীর শাহবাগ থানাধীন চাঁনখারপুল এলাকায় ছাত্র-জনতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন ক্ষুদ্র ঝুট ব্যবসায়ী মো. মনির। ওই দিন দুপুর আনুমানিক সময়ে আন্দোলনকারীদের ওপর লক্ষ্য করে চালানো গুলিবর্ষণে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।
পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় নিহত মনিরের স্ত্রী রোজিনা আক্তার বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মী ও তৎকালীন প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর তদন্ত সংস্থা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত ও আইনের আওতায় আনতে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্দোলনের সময় চাঁনখারপুল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের ভূমিকা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্যাদি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। শুনানি শেষে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নথিপত্র কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ