ক্রীড়া ডেস্ক
সময় অপচয় রোধে ফুটবলে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া নতুন নিয়মের প্রথম বাস্তব প্রয়োগের মুখে পড়েছেন ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ড ও সান্তোসের অধিনায়ক নেইমার জুনিয়র। মাঠে গোলরক্ষকের চিকিৎসা নেওয়ার কারণে নতুন এই নিয়মের গ্যাঁড়াকলে পড়ে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে এক মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে কাটাতে হয়। তবে নিয়মের বরখেলাপের কারণে নয়, বরং কোচের সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হওয়ার খেসারত দিতে হয়েছে তাকে।
সম্প্রতি ব্রাজিলের সিরি আ-তে ভাস্কোর বিপক্ষে সান্তোসের ম্যাচে এই ঘটনা ঘটে। ম্যাচটিতে সান্তোস ৩-০ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করে। খেলার একটি পর্যায়ে সান্তোসের গোলরক্ষক গ্যাব্রিয়েল ব্রাজাওয়ে চোটের কারণে মাঠে চিকিৎসাসেবা নেন। নতুন প্রবর্তিত নিয়ম অনুযায়ী, গোলরক্ষক চিকিৎসা নেওয়ার পর খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পূর্বে দলের আউটফিল্ডের একজন খেলোয়াড়কে বাধ্যতামূলকভাবে এক মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে অবস্থান করতে হয়।
এই খেলোয়াড় কে হবেন, তা নির্ধারণ করার পূর্ণ দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দলের কোচের ওপর ন্যস্ত থাকে। নিয়ম অনুযায়ী, কোচের হাতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য মাত্র ১০ সেকেন্ড সময় বরাদ্দ থাকে। নির্ধারিত ১০ সেকেন্ডের মধ্যে কোচ কোনো খেলোয়াড়ের নাম বা জার্সি নম্বর চতুর্থ অফিসিয়ালকে জানাতে ব্যর্থ হলে, দলের অধিনায়ককেই শাস্তিস্বরূপ এক মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে চলে যেতে হয়।
ভাস্কোর বিপক্ষে উক্ত ম্যাচে সান্তোসের কোচ অ্যালেক্সি স্তিভাল, যিনি ফুটবল বিশ্বে ‘কুচা’ নামে সমধিক পরিচিত, নির্ধারিত ১০ সেকেন্ডের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের নাম জানাতে পারেননি। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ম প্রযোজ্য হওয়ায় সান্তোসের অধিনায়ক নেইমারকে মাঠের বাইরে যেতে হয় এবং এক মিনিট দল দশজন নিয়ে খেলে। কোচের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধীরগতির কারণে অধিনায়ককে এই বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত সান্তোসের বড় ব্যবধানের জয়ে শেষ হলেও, নেইমারের এই ঘটনাটি ফুটবলের নতুন নিয়মের কার্যকারিতা ও এর সম্ভাব্য ত্রুটি নিয়ে ক্রীড়া বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আধুনিক ফুটবলে মাঠের কার্যকর সময় বৃদ্ধি এবং খেলোয়াড়দের কৃত্রিম সময়ক্ষেপণ বা কালবিলম্বের প্রবণতা রোধ করার উদ্দেশ্যেই মূলত এই কঠোর নিয়মটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
বর্তমানে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগসহ বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় পরীক্ষামূলকভাবে এই নিয়মটির কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে। মাঠের লড়াইয়ে খেলার গতি বজায় রাখতে এবং অযাচিত বিরতি কমিয়ে আনতে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও, কোচের প্রশাসনিক ভুলে মাঠের তারকা খেলোয়াড়ের শাস্তির মুখে পড়ার বিষয়টি এই নিয়মের ব্যবহারিক সীমাবদ্ধতাগুলোকে স্পষ্ট করে তুলেছে। পরীক্ষামূলক এই ধাপের ফলাফল ও সার্বিক পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক ফুটবল কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে নিয়মটিকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।


