আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য কঠোর নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে একটি সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মধ্যরাতের পর তাকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় হাসপাতালে নেওয়া হয়।
কারাগারে দীর্ঘমেয়াদি বন্দিজীবনের কারণে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় কারা কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের সমন্বিত সিদ্ধান্তে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল তার বিভিন্ন ধরনের মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে পুনরায় আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ইমরান খানের নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ইসলামাবাদ ও এর আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আট শতাধিক সদস্যকে হাসপাতাল চত্বর ও এর সংযোগ সড়কগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া হাসপাতালের নির্দিষ্ট কিছু অংশ বা ওয়ার্ডকে সাময়িকভাবে নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনা হয়েছে।
২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তোশাখানার উপহার সংক্রান্ত বিতর্ক এবং আল-কাদির ট্রাস্ট মামলাসহ একাধিক অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মধ্যে কিছু মামলায় তাকে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি কারাগারে তার বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কারাবন্দি একজন শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতার স্বাস্থ্যগত বিষয় নিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজধানীতে অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রেখেছে এবং যেকোনো ধরনের জনসমাগম এড়াতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চিকিৎসা শেষে তাকে কারাগারে ফিরিয়ে আনার পরও সংবেদনশীল এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে বলে প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে।


