অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সামরিক সংঘাত এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহনে তীব্র বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান এই জ্বালানি সরবরাহ রুটে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত পাঁচ কার্যদিবসে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে এবং মার্কিন মানদণ্ড ডব্লিউটিআই ক্রুডের দরও ৮ শতাংশের কাছাকাছি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দুই মাসব্যাপী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া এবং নতুন কোনো কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় তেলের বাজারে এই অস্থিরতা দেখা দেয়। এর আগে উভয় বেঞ্চমার্কে দুই শতাংশের বেশি মূল্যবৃদ্ধি নিশ্চিত হওয়ার পর জ্বালানি পণ্যটির বাজার গত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহের পর সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছায়।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশ্বের মোট সামুদ্রিক তেল বাণিজ্যের একটি বিরাট অংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ও কড়াকড়ির কারণে ট্যাংকার চলাচল তলানিতে ঠেকেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে এক ধরনের দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা পাইপলাইনে থাকা জ্বালানির ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা এবং তেহরানের পক্ষ থেকেও কৌশলগত অবস্থান ধরে রাখার পাল্টাপাল্টি হুশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা কেবল জ্বালানি তেলের বাজারকেই অস্থিতিশীল করবে না, বরং বিশ্বজুড়ে উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং সার্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার মাধ্যমে এটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতিকে মন্থর করে তুলতে পারে।
জ্বালানি বাজারের এই অব্যাহত অস্থিরতা প্রশমনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি বিকল্প রুট দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের টেকসই সমাধান না হলে আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি থেকেই যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


