কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাজুর মরদেহ দেশে ফেরত, ভারতে অপর বাংলাদেশির শেষকৃত্য সম্পন্ন

কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাজুর মরদেহ দেশে ফেরত, ভারতে অপর বাংলাদেশির শেষকৃত্য সম্পন্ন

সারাদেশ ডেস্ক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো বাংলাদেশি নাগরিক মো. আলিমুজ্জামান সাজুর (৪৫) মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহত আলিমুজ্জামান সাজু সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। শনিবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে ভারতের ঘোজাডাঙ্গা ইমিগ্রেশন ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে জিরো পয়েন্টে পৌঁছায়। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষে ভোমরা ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সজীব বালা এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কোম্পানি কমান্ডার আফজাল হোসেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কফিনটি গ্রহণ করেন।
ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের যাবতীয় প্রশাসনিক ও আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুরেই সাজুর পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এরপর মরদেহবাহী গাড়িটি কালীগঞ্জ উপজেলায় তার নিজ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আছরের নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
একই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম তারালী গ্রামের বাসিন্দা রেবুতি রানী সরকারের (৪০) মরদেহ ভারতে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের ভাবেশ কুমার সরকারের স্ত্রী এবং দুই সন্তানের জননী ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নিমতলা শ্মশানঘাটে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে কলকাতার হোটেল ‘শিখা ইন’-এ আকস্মিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে শ্বাসরোধ হয়ে এবং আগুনে পুড়ে মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে অন্তত সাতজনই বাংলাদেশি নাগরিক বলে শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসা ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে তারা ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন। এই দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক দগ্ধ হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটির পর বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে হতাহতদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ করে মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে দুই দেশের ইমিগ্রেশন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের নিজ এলাকা সাতক্ষীরাসহ সীমান্তবর্তী জনপদে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ