আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করে বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক জ্যানেট ভার্গাস এক রায়ে এই আদেশ দেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের আইনি ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহার করেছেন এবং প্রক্রিয়াটি ফেডারেল অভিবাসন আইনের পরিপন্থী।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বিচারক জ্যানেট ভার্গাস উল্লেখ করেন, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই স্থগিতাদেশ ছিল স্পষ্টতই বেআইনি। কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইন অনুযায়ী কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নিয়মিত ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রমের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি কর্তৃত্ব খর্ব করার সুযোগ নেই। কেবল আবেদনকারীর জাতীয়তা বা দেশের পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে সামগ্রিকভাবে অভিবাসী ভিসা প্রদান বন্ধ করে দেওয়া আইনের বিধিবদ্ধ কাঠামোর সরাসরি লঙ্ঘন।
চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি কার্যকর হওয়া ওই সিদ্ধান্তের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ও পাকিস্তান; লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে; বলকান অঞ্চলের আলবেনিয়া ও বসনিয়াসহ আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা প্রত্যাশীরা সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েন।
তৎকালীন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, এসব দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে তাদের “পাবলিক চার্জ” বা সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সম্পদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। এই যুক্তিতে তাদের অযোগ্য ঘোষণা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ‘ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক’ এবং ‘আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার’সহ অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা কয়েকটি সংস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশের নাগরিকদের স্পন্সরকারী মার্কিন নাগরিকরা যৌথভাবে মামলা দায়ের করেন। মামলার আবেদনে বলা হয়, সম্পূর্ণ দেশের ওপর ভিত্তি করে এমন পাইকারি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে মিলিত হতে পারছিলেন না এবং এটি সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের এই রায়ের ফলে বাংলাদেশসহ তালিকাভুক্ত ৭৫টি দেশের যেসব নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বা কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী ভিসার অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ পুনরায় স্বাভাবিক গতি ফিরে পাওয়ার পথ সুগম হলো। তবে এই রায়ের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ বা আপিলের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।


