জনগণের প্রশ্নে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টার

জনগণের প্রশ্নে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টার

জাতীয় ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক: জনগণের মৌলিক দাবি ও জাতীয় স্বার্থে সব ধরনের রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে যেকোনো সরকারের মূল ভিত্তি হতে হবে জনগণের প্রতি অবিচল দায়বদ্ধতা।
শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কোন পথে’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনায় ড. মাহদী আমিন গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে বিশদ বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের প্রধানতম চাওয়া ছিল মৌলিক মানবাধিকার এবং নিরঙ্কুশ বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা। অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অচলায়তন ভেঙে এমন একটি শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলাই ছিল এই অভ্যুত্থানের লক্ষ্য, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপে সরকারকে দেশের নাগরিকদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
রাজনৈতিক বহুত্ববাদের গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষা উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আদর্শগত ভিন্নতা থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক ও ইতিবাচক। তবে যখন প্রশ্নটি জনগণের স্বার্থ ও দেশের সার্বিক নিরাপত্তার, তখন সব বিভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। সুস্থ গণতান্ত্রিক চর্চায় সরকারের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা অপরিহার্য হলেও তা হতে হবে যুক্তিগ্রাহ্য ও বস্তুনিষ্ঠ। রাজনৈতিক বিরোধিতাকে ব্যক্তিগত চরিত্রহননের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ওপর তিনি জোর দেন।
রাষ্ট্র পরিচালনায় বিরোধী দলের দায়িত্বশীল ভূমিকার বিষয়েও আলোকপাত করেন ড. মাহদী আমিন। তিনি মন্তব্য করেন, বিরোধী দলকে সামগ্রিক বাস্তবতা অনুধাবন করতে হবে; সব বিষয়ে অন্ধ বিরোধিতা ইতিবাচক রাজনীতির পরিচায়ক নয়। বরং ইতিবাচক প্রস্তাবনা ও যৌক্তিক সমালোচনার মাধ্যমেই শাসনব্যবস্থাকে সঠিক পথে রাখা সম্ভব।
আলোচনার সমাপনী অংশে তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হলে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিনির্ধারণ নিশ্চিত করতে হবে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশাকে রাষ্ট্রীয় নীতিতে রূপ দেওয়ার মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ