জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করে উপযুক্ত সময়ে ভারত সফর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করে উপযুক্ত সময়ে ভারত সফর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

কূটনীতি ডেস্ক
জাতীয় স্বার্থের অগ্রাধিকার এবং আলোচনার সন্তোষজনক অগ্রগতির ভিত্তিতে উপযুক্ত সময়ে ভারতে সরকারি সফর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তাড়াহুড়ো করে নয়, বরং প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি সুদৃঢ় করে কার্যকর আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা।
শনিবার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সরকারের এই অবস্থান স্পষ্ট করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের নীতিগত কাঠামো নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক বক্তব্য।
জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক
প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি কার্যকর, বাস্তবসম্মত এবং ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, যেকোনো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সার্বভৌম স্বার্থের সঙ্গে আপস করে কোনো দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
ভারত সফরের সময়সূচি নির্ধারণ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আলোচনার অগ্রগতি এবং সার্বিক প্রস্তুতির ওপর সফরের সময় নির্ভর করছে। দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হলে সফর দ্রুত অনুষ্ঠিত হতে পারে, অন্যথায় উপযুক্ত প্রস্তুতি শেষেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকারপ্রধান পর্যায়ের বৈঠকের জন্য কূটনৈতিক পর্যায়ে যথাযথ গ্রাউন্ডওয়ার্ক ও প্রস্তুতি অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রত্যর্পণ চুক্তি ও শেখ হাসিনার ফেরত আনা প্রসঙ্গ
সংবাদ সম্মেলনে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশত্যাগের পর ভারতে অবস্থান নেওয়া শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশে একাধিক ফৌজদারি ও হত্যা মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফলও এসেছে।
হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় এই আইনি প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। এটি কোনো নতুন শর্ত নয়, বরং একটি চলমান প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ। বাংলাদেশে সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনা দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও অনুভূতির সঙ্গে জড়িত। ঢাকা এই প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েই দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যেতে চায়।
কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত
সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক মনোভাব ও সদিচ্ছার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও জনআকাঙ্ক্ষার বিষয়ে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকেও ইতিবাচক উপলব্ধি দৃশ্যমান হচ্ছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান অমীমাংসিত বিষয়গুলোর গ্রহণযোগ্য সমাধান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার পথ খুঁজছে বর্তমান প্রশাসন। সার্বিক প্রস্তুতির ভিত্তিতেই আগামী দিনগুলোতে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ