জাতীয় ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর চারপাশের নদ-নদী দখল ও দূষণমুক্ত করে নৌচলাচল অবাধ, সচল ও নিরাপদ করতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকেরা। নদীগুলোকে স্বাভাবিক প্রবাহে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নদীর তীরবর্তী এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে নাগরিক জীবনের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে বুড়িগঙ্গা নদীতে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। বুড়িগঙ্গার খোলামোড়া ঘাট থেকে ওয়াইজ ঘাট পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানী হিসেবে ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বুড়িগঙ্গা, বালু ও ধলেশ্বরীসহ রাজধানীর আশপাশের নদীগুলোকে দূষণমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। নদীর পাড় সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হাঁটাচলা ও ভ্রমণের উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগও চলমান রয়েছে। নদী ও নগরের পারস্পরিক সংযোগ এবং বাংলার ঐতিহ্যকে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত সময়োপযোগী ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নদীকেন্দ্রিক সংস্কৃতি রক্ষায় নাগরিক সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে সাধারণ নাগরিকদের সরাসরি সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আদি ঢাকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ঢাকার দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ইতিহাস ও নদীকেন্দ্রিক ঐতিহ্যের সঙ্গে নগরবাসীর মেলবন্ধন ঘটানোই সিটি করপোরেশনের লক্ষ্য। শহরকে ভালোবাসার মধ্য দিয়েই একটি বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব।
ঢাকার চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে প্রশাসক জানান, মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের আওতায় মিনি ম্যারাথন, সাইকেল র্যালি, নাট্য উৎসব ও চলচ্চিত্র উৎসবসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া কামরাঙ্গীরচর এলাকায় আট লেনের আধুনিক সড়ক নির্মাণ এবং বুড়িগঙ্গার তীর বাঁধাই করে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে তৈরির মতো বড় অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ছয়টি দল অংশ নেয়। খোলামোড়া ঘাট থেকে শুরু হওয়া প্রতিযোগিতাটি ওয়াইজ ঘাটে গিয়ে শেষ হয়। প্রতিযোগিতা শেষে সোয়ারীঘাটে নোঙর করা শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী স্টিমার ‘পিএস মাহমুদ’-এর ডেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। রাজধানীর পরিবেশ সংরক্ষণ ও নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বক্তারা সব মহলের কার্যকর সহযোগিতার আহ্বান জানান।


