অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্যে ফের বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২২ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা (ভ্যাটসহ)। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নির্ধারিত এই নতুন মূল্য আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।
বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে খাঁটি বা তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে দেশীয় বাজারে এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী লেনদেন সম্পন্ন হবে।
ক্যাটাগরি অনুযায়ী স্বর্ণের হালনাগাদ দর
স্বর্ণের মান ও ক্যারেটভেদে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে:
-
২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা (ভ্যাটসহ)
-
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩০ টাকা (ভ্যাটসহ)
-
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ১ হাজার ৮৪৬ টাকা (ভ্যাটসহ)
-
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১২ টাকা (ভ্যাটসহ)
বাজার পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট
স্বর্ণের এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের মূল্যবান ধাতুর বাজারে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় সমন্বয়ের একটি। এর আগে গত ২০ আগস্ট সকালে সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়িয়ে নতুন এই দর কার্যকর করা হলো।
আন্তর্জাতিক বাজারে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, ডলারের বিনিময় মূল্যের ওঠানামা এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে কাঁচামালের সরবরাহে টানাপোড়েন তেজাবি স্বর্ণের দামের ওপর প্রভাব ফেলছে বলে সংশ্লিষ্ট খাতের বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
স্বর্ণের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় খুচরা বাজারে। সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় অলংকার বিক্রিতে স্থবিরতার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে আসন্ন বিয়ে ও উৎসবকেন্দ্রিক কেনাকাটায় বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে। ব্যবসায়ীদের মতে, বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে নির্ধারিত সরকারি ভ্যাট ও মজুরি যুক্ত হলে অলংকার তৈরির প্রকৃত ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিক গহনা শিল্পে মন্দাভাব তৈরি করতে পারে।
বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় তেজাবি সোনার সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিতভাবে মূল্য সমন্বয় অব্যাহত থাকবে।


