প্রতারণার শিকার হয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়া বাংলাদেশি যুবক উদ্ধার, দেশে প্রত্যাবর্তন

প্রতারণার শিকার হয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়া বাংলাদেশি যুবক উদ্ধার, দেশে প্রত্যাবর্তন

জাতীয় ডেস্ক
রাশিয়ায় আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির প্রলোভনে পড়ে প্রতারণার শিকার হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে জড়িয়ে পড়া এক বাংলাদেশি কর্মীকে উদ্ধার করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকৃত কর্মীর নাম মো. রাজন হোসেন। মস্কোয় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশেষ তৎপরতায় তাকে উদ্ধার ও সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়।
মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনের ইমিগ্রেশন ছাড়পত্র সম্পন্ন করা হয়। শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় মস্কো থেকে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তাকে ঢাকার উদ্দেশে তুলে দেওয়া হয়েছে। বিমানটি আদ্দিস আবাবা হয়ে রবিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। উদ্ধার-পরবর্তী সকল আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দূতাবাসের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ বেতন, উন্নত কর্মপরিবেশ এবং স্থায়ী বসবাসের সুযোগের মতো লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাজন হোসেনসহ অন্তত ৩০ জন বাংলাদেশি যুবককে রাশিয়ায় পাঠায়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর সাধারণ কাজের পরিবর্তে কৌশলে তাদের যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে সামরিক সহায়ক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়। যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহ বাস্তবতার মুখে পড়ে এই যুবকরা দেশে ফেরার চেষ্টা করলেও চক্রটির নিয়ন্ত্রণে থাকায় তা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোকে অবহিত করা হলে বাংলাদেশ মিশন তৎপরতা শুরু করে এবং রাজনের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
এই মানবপাচার ও প্রতারণার ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার ইতিপূর্বেই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ৩০ জন কর্মীকে প্রলোভন দেখিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে পাঠানোর সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলায় গত ১ জুন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়। অভিযুক্ত আর এস ইন্টারন্যাশনাল (আরএল-১৪২৮), জাবাল-ই-নূর (আরএল-২৫০৫) এবং টিএস ওভারসিজ লিমিটেড (আরএল-১৭৫৫)—এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলসহ তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে এভাবে জনবল পাঠানোর ঘটনা আন্তর্জাতিক অভিবাসন আইনের চরম লঙ্ঘন এবং এটি মানবপাচারের একটি বিপজ্জনক রূপ। রাজন হোসেনের প্রত্যাবর্তন স্বস্তিদায়ক হলেও এখনো সেখানে আটকে থাকা বাকি কর্মীদের নিরাপত্তা ও অবস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবশিষ্ট কর্মীদের শনাক্তকরণ এবং তাদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িত স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ