যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের কারণ স্পষ্ট করল মার্কিন দূতাবাস

যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের কারণ স্পষ্ট করল মার্কিন দূতাবাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা সুরক্ষায় নতুন করে নির্দেশনামূলক বার্তা দিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মভঙ্গ, অনুমতি ছাড়া পাঠদান ত্যাগ কিংবা অননুমোদিত অনুপস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের ভিসা তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ভিসা পাওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন বলেও জানানো হয়েছে।
শনিবার ঢাকার মার্কিন দূতাবাস তাদের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত এক বার্তায় এসব সতর্কবার্তা তুলে ধরে। মার্কিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের উদ্দেশ্যে গমনকারী শিক্ষার্থীদের ভিসার সার্বিক শর্তাবলি মেনে চলার ওপর এতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়, কোনো শিক্ষার্থী যদি প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া পড়াশোনা ছেড়ে দেন, ধারাবাহিক বা উল্লেখযোগ্য সময় ক্লাসে অনুপস্থিত থাকেন কিংবা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অবহিত না করে অধ্যয়ন কর্মসূচি বা নির্ধারিত কোর্স পরিবর্তন করেন, তবে তা সরাসরি স্টুডেন্ট ভিসা নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীর বৈধ ভিসার স্ট্যাটাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
মার্কিন দূতাবাস আরও উল্লেখ করেছে, আইনি জটিলতা এবং বৈধ অবস্থান হারানোর ঝুঁকি এড়াতে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ভিসার যাবতীয় শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলা আবশ্যক। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময়সীমা জুড়ে ‘ফুল-টাইম স্টুডেন্ট’ হিসেবে বৈধ অবস্থান (লিগ্যাল স্ট্যাটাস) সক্রিয় রাখা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বাধ্যতামূলক দায়িত্ব।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক মার্কিন অভিবাসন আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ‘এফ-১’ কিংবা ‘এম-১’ ক্যাটাগরির স্টুডেন্ট ভিসায় অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ইনফরমেশন সিস্টেমের (SEVIS) মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়। কোনো শিক্ষার্থী যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমতি ব্যতিরেকে সেমিস্টারে ড্রপ নেন বা অননুমোদিত কর্মসংস্থানে যুক্ত হন, তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে সেভিস সিস্টেমে শিক্ষার্থীর ফাইল নিষ্ক্রিয় করে দেয়। ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর অবস্থান সরাসরি অবৈধ অভিবাসী হিসেবে রূপ নেয় এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্ট্যাটাস হারানো শিক্ষার্থীদের ওপর নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য দেশটিতে পুনরায় প্রবেশের ক্ষেত্রে তিন থেকে দশ বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার ক্ষেত্রেই নয়, বরং অন্যান্য দেশে উচ্চশিক্ষা বা ভ্রমণের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গমনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে দূতাবাস থেকে প্রচারিত এই সতর্কবার্তা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মার্কিন কনস্যুলার কর্তৃপক্ষ সর্বদা শিক্ষার্থীদেরকে তাদের ডেজিগনেটেড স্কুল অফিসিয়ালের (DSO) সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ