জাতীয় ডেস্ক
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান তাকে নতুন পদের র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি পূর্বতন নৌবাহিনী প্রধানের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মহলের সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বিমান বাহিনী প্রধান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেলসহ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে নৌবাহিনী সদর দপ্তরে কমান্ড হস্তান্তর ও গ্রহণ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। নৌবাহিনী প্রধানের কার্যালয়ে কমান্ড হস্তান্তর ও গ্রহণের বইতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীর কমান্ড গ্রহণ করেন। এ সময় নৌবাহিনী সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদানকারী খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পাশাপাশি দেশ ও বিদেশে বিভিন্ন উচ্চতর শিক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণ লাভ করেন। এছাড়া তিনি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
প্রায় চার দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষণমূলক দায়িত্ব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করেছেন। এর মধ্যে কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন, বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ড্যান্ট এবং নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক নৌ অপারেশন্স ও নৌ পরিকল্পনা পদের দায়িত্ব উল্লেখযোগ্য। এছাড়া তিনি লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নৌবাহিনীর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পেশাগত জীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক, নৌ-পারদর্শিতা পদক এবং জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা লাভ করেছেন। সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সামরিক কৌশল বিষয়ে তার একাধিক গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ রয়েছে। বর্তমান দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সরকারের ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে নৌবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ডের মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের আধুনিকায়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।


