জাতীয় ডেস্ক
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসে বঙ্গভবনে পৌঁছেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার বেলা ১১টার দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও বাসভবন বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন। সেখানে পৌঁছালে নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এরপর তাকে গার্ড অব অনার ও আনুষ্ঠানিক অভিবাদন প্রদান করা হয়।
বঙ্গভবনে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে তিনি প্রাথমিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। রাষ্ট্রপ্রধানের এই দায়িত্বভার গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক কার্যক্রম গতিশীল হলো।
এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর কিন্তু সুগম্ভীর রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাকে সাংবিধানিক শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ সম্পন্ন করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পরদিন শনিবার সকালে রাষ্ট্রপতি জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর ও কিছুক্ষণ নিরবতা পালনের মধ্য দিয়ে তিনি তার রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনাকে সমুন্নত রেখে দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয় এ সময়।
উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে নির্বাচিত হন। সংসদীয় কার্যপ্রণালী ও সাংবিধানিক ধারা অনুসারে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে তিনি ২৫৫ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন লাভ করেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮টি ভোট। নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় ও সংসদ সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিক ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
দেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান এবং তিনি অন্যান্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করেন। রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সকল কাজ রাষ্ট্রপতির নামে পরিচালিত হয় এবং তিনি সংসদীয় ব্যবস্থার মূল ভিত্তি ও সাংবিধানিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কর্মদিবস শুরুর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও কূটনৈতিক সম্পর্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে রাষ্ট্রপতির নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।


