বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হলেন মো. আব্দুর রহমান খান

বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হলেন মো. আব্দুর রহমান খান

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক
বিশ্বব্যাংকের ওয়াশিংটনস্থ প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট কনস্টিটুয়েন্সির জন্য ‘বিকল্প নির্বাহী পরিচালক’ (অল্টারনেট এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর) হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান। আগামী তিন বছর মেয়াদে তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন।
রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এই প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, যোগদানের তারিখ থেকেই এই নিয়োগ কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপনের শর্তানুযায়ী, মো. আব্দুর রহমান খানকে তাঁর সরকারি চাকরির অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) ও তৎসংক্রান্ত সকল সুবিধাদি স্থগিত রাখতে হবে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার সঙ্গে থাকা সব ধরনের কর্ম-সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যাগ করতে হবে।
বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে নির্বাহী পরিচালকদের পাশাপাশি বিকল্প নির্বাহী পরিচালকরা সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব করেন। বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের যে কনস্টিটুয়েন্সির অন্তর্ভুক্ত, সেখানে বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষা, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন, ঋণ কর্মসূচি পর্যালোচনা এবং নীতি নির্ধারণী আলোচনায় কার্যকর ভূমিকা পালন করেন।
মো. আব্দুর রহমান খান বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (ট্যাক্সেশন ক্যাডার) একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন, রাজস্ব প্রশাসন সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় তাঁর দীর্ঘ কর্মঅভিজ্ঞতা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাজেট সহায়তা প্রাপ্তি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং আর্থিক খাতের বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংকের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে। ওয়াশিংটনস্থ প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশের পক্ষে অভিজ্ঞ একজন কর্মকর্তার এ ধরনের নীতি-নির্ধারণী পদে অন্তর্ভুক্তি বহুপাক্ষিক এই সংস্থার সঙ্গে সরকারের সমন্বয়কে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে সহায়ক হবে।
অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ