জাতীয় ডেস্ক
সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বিশেষ পরিষদের বৈঠকের ফাঁকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি বিশেষ চিঠি হস্তান্তর করেন। চিঠিতে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চলমান ইতিবাচক গতিধারায় উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে এবং অংশীদারত্বমূলক সম্পর্ককে ভবিষ্যতের চাহিদার আলোকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন স্তরে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সফর অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত খাতে সহযোগিতা প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। অদূর ভবিষ্যতে দুই দেশের নীতিনির্ধারক ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের আরও বেশ কিছু সম্ভাব্য সফরের প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ বাংলাদেশকে তাদের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে সৌদি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পৃক্ততা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া, সৌদি আরবের আর্থসামাজিক অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘমেয়াদী ও মূল্যবান অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। এই কূটনৈতিক বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ আবদুল করিম আল-খারেজি, ওআইসিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ওআইসি সম্মেলনের সাইডলাইনে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলিম বিশ্বের সামগ্রিক ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের সক্রিয় কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ও শ্রমবাজার সুরক্ষার ক্ষেত্রে এই ধরনের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। দুই দেশের যৌথ কূটনৈতিক সদিচ্ছা ভবিষ্যতে বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস এবং জনশক্তি রপ্তানির নতুন খাত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


