অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দেশের বাজারে পূর্বের নির্ধারিত একই দামে স্বর্ণ কেনাবেচা করা হচ্ছে। এর আগে গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) স্বর্ণের দাম সর্বশেষ সমন্বয় করেছিল সংগঠনটি। ওই সময় প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ওই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়।
বাজুসের নতুন ও সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের বাজারে বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪ টাকা। পাশাপাশি ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩ হাজার ১৮৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও দেশের বাজারে রুপার দাম সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৫৯ টাকায় নয় বরং ৫ হাজার ২৪৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাজুস স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ঘোষিত এই বিক্রয় মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট পূর্ব থেকেই যুক্ত রয়েছে। ফলে ক্রেতাদের কাছ থেকে বিক্রয়ের সময় আলাদা করে কোনো ধরনের ভ্যাট আদায় করা যাবে না। তবে অলংকারের ডিজাইন বা শৈল্পিক নকশা ভেده নির্ধারিত মজুরি প্রযোজ্য হবে। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে পুরোনো অলংকার পরিবর্তন বা পরিবর্ধন (বদল) এবং ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাজুসের পূর্বে নির্ধারিত নিয়ম ও নির্দেশনা বহাল থাকবে।
পরবর্তী নির্দেশনা বা নতুন মূল্যতালিকা ঘোষণা না করা পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য তালিকা কঠোরভাবে কার্যকর রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারে বহুমুখী অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তেজাবি স্বর্ণের দামের ওঠানামার ফলেই স্থানীয় বাজারেও এর ধারাবাহিক প্রভাব পড়ছে।


