আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেপালে চলমান ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৭৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় এখনও ১ হাজার ৯২৪ জন ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি নাগরিকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে এ পর্যন্ত মোট ৫৭৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে নিখোঁজের তালিকায় প্রায় এক হাজার নতুন নাম যুক্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল ও অবরুদ্ধ এলাকায় আটকে পড়া বহু মানুষের তথ্য নতুন করে যুক্ত হওয়ায় নিখোঁজের সংখ্যা হঠাৎ করে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, নিখোঁজদের বড় একটি অংশে বিদেশি নাগরিকরাও রয়েছেন। এর মধ্যে কেবল নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকের সংখ্যাই ৫১৭ জন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ভারতের ৩২০ জন নাগরিকের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দুর্গত পাহাড়ি ও জনবসতিহীন এলাকাগুলোতে অবস্থানরত দেশি ও বিদেশি পর্যটক বা শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
টানা বৃষ্টিপাত এবং এর ফলে সৃষ্ট ভূমিধসের কারণে দেশটির রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন সংযোগকারী সড়ক ও যোগাযোগ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে রাসুয়া জেলার যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দলের পৌঁছানো অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ভাঙা রাস্তার কারণে ভারী যন্ত্রপাতি ও ত্রাণসামগ্রী যথাসময়ে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে নেপালের নিরাপত্তা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলগুলো যৌথভাবে দুর্গত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধান এবং অবরুদ্ধ মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে হিমালয় অঞ্চলের দেশ নেপালে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মৌসুমি বৃষ্টিপাতজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরিকল্পিত অবকাঠামো এবং নদী অববাহিকায় অতিরিক্ত নির্মাণের কারণে এ ধরনের আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সাহায্য ও সহযোগিতার আহ্বান জানানো হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্গত এলাকাগুলো থেকে প্রতিনিয়ত নতুন তথ্য আসছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত হতাহত ও নিখোঁজের চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সবকটি জরুরি সেবামূলক সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।


